ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
কাজী রাহাত শামস • প্রকাশিত: ০৬ আগষ্ট ২০২৬, ১০:৩১ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

হাম নিয়ে সতর্কতা: লক্ষণ, প্রতিরোধ ও করণীয়- যা জানা জরুরি

হাম নিয়ে সতর্কতা: লক্ষণ, প্রতিরোধ ও করণীয়- যা জানা জরুরি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সময়ে হাম (Measles) রোগের সংক্রমণ আবারও বাড়তে দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি এবং টিকা না নেওয়ার প্রবণতা এই রোগের বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে অন্যরা সহজেই সংক্রমিত হতে পারেন। রোগটি শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও টিকা না নেওয়া যেকোনো বয়সের মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন।

হামের লক্ষণ

হামের প্রাথমিক লক্ষণ সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো হওয়ায় অনেক সময় শুরুতে রোগটি শনাক্ত করা কঠিন হয়। সাধারণত সংক্রমণের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয়।

প্রধান লক্ষণগুলো হলো—

১০১ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর

শুকনো কাশি

নাক দিয়ে পানি পড়া

চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া

মুখের ভেতরে সাদা দানার মতো ছোট দাগ (কপলিক স্পট)

কয়েক দিন পর মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে লালচে র‍্যাশ ছড়িয়ে পড়া

কীভাবে ছড়ায়?

হাম বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা কথা বলার সময় ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো কক্ষ ত্যাগ করার পরও কিছু সময় ভাইরাস বাতাসে থাকতে পারে। ফলে একই স্থানে অবস্থানকারী টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

৫ বছরের কম বয়সী শিশু

যেসব শিশু হামের টিকা নেয়নি

গর্ভবতী নারী

অপুষ্টিতে ভোগা শিশু

দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি

কী কী জটিলতা হতে পারে?

বেশিরভাগ রোগী সুস্থ হয়ে উঠলেও কিছু ক্ষেত্রে হাম গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে—

নিউমোনিয়া

কানের সংক্রমণ

ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা

মস্তিষ্কে প্রদাহ (Encephalitis)

বিরল ক্ষেত্রে মৃত্যুও হতে পারে

প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায় হলো এমএমআর (MMR) অথবা জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী নির্ধারিত হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ।

অভিভাবকদের উচিত শিশুদের নির্ধারিত সময়ে সব টিকা সম্পূর্ণ করা। একই সঙ্গে হাত ধোয়া, কাশি-হাঁচির শিষ্টাচার মেনে চলা এবং অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাও সংক্রমণ কমাতে সহায়তা করে।

আক্রান্ত হলে কী করবেন?

হামের নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। তাই চিকিৎসা মূলত উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ ও জটিলতা প্রতিরোধের ওপর নির্ভর করে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী—

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।

প্রচুর পানি ও তরল খাবার পান করুন।

জ্বরের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন।

শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ‘এ’ দেওয়া হতে পারে।

আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন, যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়।

কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?

নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত—

শ্বাসকষ্ট

খিঁচুনি

অতিরিক্ত ঝিমুনি বা অচেতনভাব

উচ্চ জ্বর দীর্ঘ সময় ধরে থাকা

তীব্র পানিশূন্যতা

শিশু খাওয়া বা পান করা বন্ধ করে দিলে

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিশুর টিকা বাদ পড়ে গেলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করে টিকা সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।