-
🇧🇩
বাংলা মূল ভাষা (Original)
-
🇺🇸
English English
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী গণনায় ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে। টেক্সাস, কানসাস ও সাউথ ক্যারোলাইনার মতো রিপাবলিকান প্রধান রাজ্যে ঐতিহাসিক জয় তাদের অগ্রযাত্রাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। তবে জনগণের ভোটকে শুধু ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন হিসেবে পড়লে ভুল হবে, জীবনযাত্রার ব্যয়, যুদ্ধ ও সরকারের জবাবদিহি নিয়ে অসন্তোষও ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে।
৪ নভেম্বরের ফলাফল ঘোষণার পর আরও ভোট গণনা ও আসন নিশ্চিত হওয়ায় স্পষ্ট হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা আগামী বছর থেকে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেবে। সিনেটে দলটি অন্তত ৫৪টি আসন পেয়েছে, রিপাবলিকানদের আসন ৪৪। আলাস্কা ও মিসিসিপির দুটি আসনে ভোটগণনা চলছিল, ফলে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও বাড়তে পারে। প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ৩০টি আসন বাড়িয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। তবে ৫ নভেম্বর এসোসিয়েট প্রেসের হিসাব অনুযায়ী, তখনো প্রতিনিধি পরিষদের ৩৫টি আসনের ফল ঘোষণা বাকি ছিল। তাই চূড়ান্ত আসনসংখ্যা ও ব্যবধান আরও বদলাতে পারে।
সিনেটের ফলাফলে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজ্যগুলো থেকে। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে তিন দশকেরও বেশি সময় পর রাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের সিনেট আসন এনে দিয়েছেন। কানসাসে অ্যাডাম হ্যামিলটন রিপাবলিকান রজার মার্শালকে হারিয়ে ১৯৩২ সালের পর রাজ্যটির প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর হয়েছেন। সাউথ ক্যারোলাইনায় অ্যানি অ্যান্ড্রুজ রিপাবলিকান প্রার্থীকে হারিয়েছেন। এ ছাড়া ওহাইওতে শেরড ব্রাউন, নর্থ ক্যারোলাইনায় রয় কুপার, জর্জিয়ায় জন অসফ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারে ক্রিস পাপাসের জয় ডেমোক্র্যাটদের সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠতা গড়ে তুলেছে।
দুটি সিনেট আসনের ফল তখনো চূড়ান্ত হয়নি। মিসিসিপিতে ডেমোক্র্যাট স্কট কোলম রিপাবলিকান সিনেটর হাইড স্মিথের চেয়ে ১ হাজার ১৪৫ ভোটে এগিয়ে ছিলেন, তবে কয়েক হাজার অস্থায়ী ব্যালট গণনা বাকি ছিল। আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট মেরি পেলটোলা রিপাবলিকান ড্যান সুলিভানের চেয়ে ৬৩৭ ভোটে এগিয়ে ছিলেন, কিন্তু কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ না পেলে রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী র্যাঙ্কড চয়েস গণনা হবে। আলাস্কার গভর্নর নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাট জনাথন ক্রেইস টমকিন্স এগিয়ে থাকলেও তিনি ৫০ শতাংশের নিচে থাকায় সেখানে পরবর্তী গণনা প্রয়োজন হতে পারে। কানসাসের গভর্নর নির্বাচনও তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ডাকা হয়নি।
প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয় শুধু শহর বা ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাট সমর্থক এলাকায় সীমিত ছিল না। আইওয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও পেনসিলভানিয়ায় তারা একাধিক আসন পেয়েছে। কেনটাকি, মিসৌরি, নেব্রাস্কা, ওহাইও ও ইউটাহেও নতুন ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। আইওয়ায়, যেখানে নির্বাচনের আগে কংগ্রেসে রাজ্যটির প্রতিনিধিদল পুরোপুরি রিপাবলিকান ছিল, এবার ডেমোক্র্যাটরা তিনটি আসন পেয়েছে। ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ৩৫টি হাউস আসনের ফল অমীমাংসিত থাকায় দলীয় ব্যবধানের চূড়ান্ত হিসাব এখনো স্থির হয়নি।
গভর্নর নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। টেক্সাসে জিনা হিনোজোসা তিন মেয়াদের রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়ে রাজ্যটির প্রথম লাতিনা গভর্নর হতে যাচ্ছেন। ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাকটন রিপাবলিকান বিবেক রামাস্বামীকে হারিয়েছেন। জর্জিয়ায় কেইশা ল্যান্স বটমস জিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান বায়রন ডোনাল্ডস জিতে দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রিপাবলিকান গভর্নর হচ্ছেন। নিউইয়র্কে গভর্নর ক্যাথি হোকুল পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। ৩৬টি রাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হয়েছে, তবে আলাস্কা ও কানসাসসহ কয়েকটি দৌড়ের ফল তখনো পুরোপুরি স্থির হয়নি।
কংগ্রেসে মুসলিম প্রতিনিধিত্বও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। রিলিজিয়ন নিউজ সার্ভিসের ৪ নভেম্বরের হিসাবে, সাতজন মুসলিম কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছেন, ছয়জন প্রতিনিধি পরিষদে এবং একজন সিনেটে। মিশিগানের আবদুল আল সায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম। নিউইয়র্কের ড্যারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার প্রথম লাতিনা মুসলিম হিসেবে কংগ্রেসে যাচ্ছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার আয়েশা ওয়াহাবের ফল তখনো ডাকা হয়নি। তিনি জিতলে কংগ্রেসে মুসলিম সদস্যের সংখ্যা আট হতে পারে। এই হিসাব ভোট গণনার ওপর নির্ভরশীল।
নির্বাচনের রাজনৈতিক অর্থ নিয়ে ভোটারদের মনোভাবও গুরুত্বপূর্ণ। এপি ভোটার পুল অনুযায়ী, প্রায় তিন চতুর্থাংশ ভোটার দেশের বর্তমান গতিপথ নিয়ে ক্ষুব্ধ বা অসন্তুষ্ট ছিলেন। একই অনুপাতে ভোটার অর্থনীতিকে দুর্বল বলেছেন, আর প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি তাদের ওপর মাঝারি বা গুরুতর আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি দুর্নীতিকে প্রায় অর্ধেক ভোটার কংগ্রেস নির্বাচনে “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বিষয় বলেছেন। এপি ভোটার পুল অনুযায়ী, ছয়জনের মধ্যে প্রায় একজন নয়, বরং প্রায় ছয়জনের মধ্যে চারজন না, এ সংখ্যাটি “প্রায় ছয়জনের মধ্যে” নয়, সমীক্ষায় প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার বলেছেন, ট্রাম্প নিজের স্বার্থকে দেশের স্বার্থের চেয়ে অগ্রাধিকার দেন। তা সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ছিল অর্ধেকেরও কম ভোটারের। অর্থাৎ ফলটি ডেমোক্র্যাটদের প্রতি নিঃশর্ত আস্থার চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবাদেরও প্রতিফলন।
নতুন কংগ্রেসের প্রথম বড় কাজ হবে এই অসন্তোষের জবাব দেওয়া। ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং প্রশাসনের ওপর নজরদারিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ফলে প্রতিনিধি পরিষদের কমিটিগুলো প্রশাসনের কর্মকর্তা ও নথি তলব করতে, শুনানি করতে এবং তদন্ত চালাতে পারবে। সিনেটও প্রেসিডেন্টের মনোনীত কর্মকর্তাদের অনুমোদন আটকে রাখতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত, সম্ভাব্য অনিয়ম এবং প্রেসিডেন্ট ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের আর্থিক কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে তদন্তের ফল ভোটারদের দৈনন্দিন ব্যয় কমাবে, এ নিশ্চয়তা নেই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, খাদ্য ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়ে বাস্তব অগ্রগতি দেখাতে হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতা অবশ্য শেষ হয়ে যাচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট নির্বাহী শাখা পরিচালনা করবেন, নীতি বাস্তবায়ন করবেন এবং কংগ্রেসে পাস হওয়া বিলে ভেটো দিতে পারবেন। ট্রাম্প নির্বাচনের পর বলেছেন, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে পারেন, তবে তাঁদের প্রস্তাবকে “ধ্বংসাত্মক” মনে হলে ভেটো দেবেন। তিনি নির্বাচনী পরাজয়কে নিজের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখেননি এবং রিপাবলিকান প্রার্থীদের মানকে দায়ী করেছেন। তবে ইরান যুদ্ধ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে, এ কথা স্বীকার করেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও যুদ্ধকে পরাজয়ের কারণ বলেছেন। ফলে প্রশাসন ও নতুন কংগ্রেসের মধ্যে সমঝোতা না হলে আইন প্রণয়নে অচলাবস্থা, তদন্ত ও পাল্টা রাজনৈতিক সংঘাত বাড়তে পারে।
ডেমোক্র্যাটরা জানুয়ারিতে নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দায়িত্ব নেবে। তার আগে বিদায়ী কংগ্রেসে রিপাবলিকানদেরই নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং ডিসেম্বরের পর সরকার চালানোর অর্থায়ন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ সময়ে রিপাবলিকানরা তাঁদের অগ্রাধিকারের কিছু বিষয় এগিয়ে নিতে চাইতে পারে; ডেমোক্র্যাটদেরও নতুন অধিবেশনের প্রস্তুতি নিতে হবে। নির্বাচনের ফল তাই একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নতুন নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির সম্ভাবনা তৈরি করেছে, অন্যদিকে ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণের ভারও ডেমোক্র্যাটদের কাঁধে দিয়েছে। তারা যদি কেবল তদন্তে মনোযোগ দেয়, আর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে দৃশ্যমান সাড়া দিতে না পারে, তাহলে জনসমর্থনের এই ঢেউ হতাশায় পরিণত হতে পারে।