প্রকাশিত: ১৫ আগষ্ট ২০২৬ , ১১:৫২ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
লেখালেখি থেকে শিক্ষা, ব্যবসা ও ব্যক্তিগত কাজ—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে দৈনন্দিন জীবনের সহকারী
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে কয়েক বছর আগেও মনে করা হতো ভবিষ্যতের কোনো প্রযুক্তি। এখন সেই ভবিষ্যৎ অনেকটাই বর্তমান। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, শিক্ষা, ব্যবসা, সংবাদমাধ্যম, চিকিৎসা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত কাজ—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, এআই এখন শুধু প্রযুক্তিবিদদের জন্য নয়; সাধারণ মানুষও নিজের ভাষায় এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন।
একটি চিঠি লিখতে হবে, কোনো বিষয় বুঝতে হবে, দীর্ঘ লেখা সংক্ষেপ করতে হবে কিংবা একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে—এসব কাজেও এআই সহায়তা দিতে পারে। ফলে সময় বাঁচানোর পাশাপাশি অনেক মানুষের কাজের ধরনও সহজ হচ্ছে।
কর্মক্ষেত্রে নতুন সহকারী
অফিসে প্রতিবেদন তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ, ই-মেইলের খসড়া, উপস্থাপনার বিষয়বস্তু তৈরি কিংবা বৈঠকের আলোচনার সারাংশ তৈরিতে এআই ব্যবহার করা হচ্ছে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও তথ্য সাজানো, অনুবাদ, প্রতিলিপি তৈরি ও প্রাথমিক খসড়া তৈরিতে এআইয়ের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে মানুষের প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে। বরং অনেক ক্ষেত্রে মানুষের কাজের ধরন পাল্টাচ্ছে। এআই দ্রুত তথ্য সাজাতে পারে, কিন্তু সেই তথ্য সঠিক কি না, কোনটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে উপস্থাপন করা হবে—এসব সিদ্ধান্তে মানুষের ভূমিকা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ ও ঝুঁকি
শিক্ষার্থীরা কঠিন বিষয় সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করাতে, প্রশ্ন তৈরি করতে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা নিতে এআই ব্যবহার করছে। একজন শিক্ষার্থী চাইলে নিজের বোঝার স্তর অনুযায়ী একটি বিষয় ব্যাখ্যা করিয়ে নিতে পারেন।
তবে পুরো উত্তর এআইয়ের কাছ থেকে নিয়ে জমা দেওয়ার প্রবণতা শিক্ষার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে মুখস্থনির্ভরতার বদলে ‘এআইনির্ভরতা’ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সামনে কী?
এআই মানুষের জায়গা পুরোপুরি দখল করবে—এমন ধারণার চেয়ে বরং মানুষ ও প্রযুক্তির সহযোগিতার দিকটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে যে ব্যক্তি এআই ব্যবহার করতে জানবেন এবং একই সঙ্গে নিজের বিচারবুদ্ধি কাজে লাগাতে পারবেন, কর্মক্ষেত্রে তার সুবিধা বেশি হতে পারে।
অর্থাৎ এআই হয়তো মানুষের বিকল্প নয়; বরং দক্ষ মানুষের হাতে এটি হতে পারে শক্তিশালী একটি হাতিয়ার।