-
🇧🇩
বাংলা মূল ভাষা (Original)
-
🇺🇸
English English
মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন বিভক্ত সরকারের মুখোমুখি। তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা কমেনি, কিন্তু আইন, বাজেট, নিয়োগ ও প্রশাসনিক জবাবদিহির ক্ষেত্রে বাধা বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ফল ঘোষণা করেছে। (৭ নভেম্বর পর্যন্ত) কিছু আসনের গণনা বা আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়ন বাকি থাকলেও, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ফল আর অনিশ্চিত নয়। এপি ৩ নভেম্বর রাতে সিনেট এবং ৪ নভেম্বর ভোরে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয় ঘোষণা করে। নতুন কংগ্রেস ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেবে।
এই ফল ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ এবং ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব ভোটারদের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে এপি ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের নির্বাচনী বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে নির্বাচনের ফলকে শুধু ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার মাপকাঠি হিসেবে দেখা যাবে না, স্থানীয় প্রার্থী, অঙ্গরাজ্যের পরিস্থিতি ও নির্বাচনী ইস্যুও ফল নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে। তা সত্ত্বেও, রিপাবলিকানদের কাছ থেকে দুই কক্ষই ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়া তাঁর শাসননীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট রাজনৈতিক সতর্কবার্তা।
তবে নির্বাচনের পরদিন থেকেই ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাংবিধানিক ক্ষমতা কমে যায়নি। তিনি এখনো নির্বাহী বিভাগের প্রধান, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং বিদ্যমান আইনের আওতায় প্রশাসনিক নির্দেশ জারির ক্ষমতার অধিকারী। অভিবাসন, বাণিজ্য, বৈদেশিক সম্পর্ক বা ফেডারেল সংস্থার পরিচালনায় তাঁর প্রশাসন নীতি চালিয়ে যেতে পারে। কংগ্রেসে বিরোধী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা মানেই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাতিল হওয়া নয়।
পরিবর্তনটি হবে মূলত সেই ক্ষমতার রাজনৈতিক ও আইনগত ব্যবহারে। নতুন কংগ্রেস আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় অনুমোদন এবং প্রশাসনের ওপর নজরদারির ক্ষমতা রাখে। ডেমোক্র্যাটরা কমিটি পরিচালনা করে শুনানি ও তদন্ত শুরু করতে, নথি চাইতে এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দাবি করতে পারবে। অভিবাসন অভিযান, সরকারি ব্যয়, ইরান সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রশাসনের সম্ভাব্য অনিয়ম তদন্তের বিষয় হতে পারে। কংগ্রেসের তদন্ত নিজে থেকে কোনো নীতি বাতিল করে না, কিন্তু তা প্রশাসনের ওপর জনসমক্ষে জবাবদিহির চাপ বাড়ায় এবং আদালত বা ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারে।
আইন ও বাজেটের ক্ষেত্রে বাধা আরও সরাসরি। নতুন আইন পাস করতে দুই কক্ষের সমর্থন লাগবে। কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলে ট্রাম্প ভেটো দিতে পারেন, আর তাঁর ভেটো অতিক্রম করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, দুই কক্ষেই দুই তৃতীয়াংশ ভোট দরকার। ফলে ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষ নিয়ন্ত্রণ করলেও, ট্রাম্পের আপত্তি উপেক্ষা করে বড় আইন পাস করানো সহজ হবে না। একইভাবে, প্রশাসনকে চালানোর অর্থ কংগ্রেস অনুমোদন করে। বরাদ্দ নিয়ে বিরোধ হলে সরকারি কর্মসূচি, সংস্থার কার্যক্রম ও নতুন উদ্যোগে চাপ তৈরি হতে পারে।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের নিয়োগনীতিতেও প্রভাব ফেলবে। বহু উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও বিচারক নিয়োগে সিনেটের অনুমোদন লাগে। ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্ঠ সিনেট কোনো মনোনয়ন আটকে দিতে, বিলম্বিত করতে বা কঠিন শুনানির মুখে ফেলতে পারে। তবে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বা প্রশাসনিক পদক্ষেপকে কংগ্রেস সরাসরি বাতিল করতে না পারলেও, আইন পাস, অর্থ বরাদ্দ বন্ধ বা সীমিত করা এবং আদালতে চ্যালেঞ্জ তোলার পথ তাদের সামনে থাকবে। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা নিয়ে চূড়ান্ত বিরোধ হলে আদালতের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
অভিবাসন নীতিতে তাই তাৎক্ষণিক উলটপালটের নিশ্চয়তা নেই। প্রশাসন বিদ্যমান আইন ও বরাদ্দের মধ্যে অভিযান চালাতে পারে। কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের তদন্ত, শুনানি, অর্থ বরাদ্দ নিয়ে দরকষাকষি এবং আদালতে চ্যালেঞ্জ নীতির পরিসর সংকুচিত করতে পারে। বৈদেশিক নীতিতেও প্রেসিডেন্টের হাতে উল্লেখযোগ্য নির্বাহী ক্ষমতা থাকবে, কিন্তু যুদ্ধ পরিচালনার খরচ, সামরিক তহবিল ও দীর্ঘমেয়াদি নীতির ওপর কংগ্রেসের প্রভাব রয়েছে। ফলে ট্রাম্প এককভাবে সব সিদ্ধান্ত আগের মতো নির্বিঘ্নে কার্যকর করতে পারবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই।
নির্বাচনের পর ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। কিন্তু ৬ নভেম্বর স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ করার ঘোষণা ভিন্ন ইঙ্গিতও দিয়েছে। অভিবাসনসহ প্রশাসনের কঠোর নীতির অন্যতম স্থপতি মিলারের এই নিয়োগকে রয়টার্স সম্ভাব্য নীতিগত ধারাবাহিকতা ও সংঘাতপূর্ণ অবস্থানের সংকেত হিসেবে বর্ণনা করেছে। এটি ভবিষ্যৎ নীতির নিশ্চয়তা নয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনী ধাক্কার পর নীতি বদলাতে যাচ্ছে—এমন প্রমাণও এখনো নেই।
অতএব, ট্রাম্প আগের মতোই তাঁর রাজনৈতিক মনোভাব প্রকাশ করতে এবং নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবেন, কিন্তু সেই ক্ষমতার ফল বাস্তবায়নে বাধা বাড়বে। নির্বাহী আদেশ জারি করা আর তা নির্বিঘ্নে কার্যকর করা এক বিষয় নয়। কংগ্রেস তদন্ত করতে পারে, অর্থ বরাদ্দে শর্ত দিতে পারে, নতুন আইন দিয়ে নীতির সীমা নির্ধারণ করতে পারে এবং প্রশাসনকে আদালতের মুখোমুখি করতে পারে। ট্রাম্পের ভেটোও থাকবে, কিন্তু তাঁর আইনসভাগত সমর্থন থাকবে না।
আগামী দুই বছর তাই ওয়াশিংটনে সহযোগিতার চেয়ে সংঘাত, তদন্ত ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে টানাপোড়েন বাড়ার আশঙ্কা বেশি। তবে এর ফল নির্ভর করবে ডেমোক্র্যাটরা তদন্তকে কতটা প্রমাণভিত্তিক ও জনস্বার্থকেন্দ্রিক রাখে, রিপাবলিকানরা প্রশাসনের পাশে কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং ট্রাম্প নিজে সমঝোতার পথ নেন, নাকি নির্বাহী ক্ষমতার বিস্তৃত ব্যবহারেই জোর দেন তার ওপর। কংগ্রেসে পরাজয় তাঁর প্রেসিডেন্ট পদ কেড়ে নেয়নি, কিন্তু তাঁর বাকি মেয়াদে এককভাবে শাসন চালানোর রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত করেছে। তিনি এখন আর লাগামহীন নন।