ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৬:৫২ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল ইসরায়েল

সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল ইসরায়েল

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইসরায়েল। গত শুক্রবার নেওয়া এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি পূর্ব আফ্রিকার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন যে, কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক খাতে সোমালিল্যান্ডের সাথে দ্রুত সহযোগিতা শুরু করবে তার দেশ।

নেতানিয়াহু এই পদক্ষেপকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বা ইব্রাহিম চুক্তির চেতনার প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সাথে আরব আমিরাত ও বাহরাইনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। এখন সোমালিল্যান্ড সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদির রহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তার দেশ আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেবে, যা আঞ্চলিক ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

তবে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সোমালিয়া সরকার। মোগাদিশু এই সিদ্ধান্তকে একটি বেআইনি পদক্ষেপ এবং তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সুপরিকল্পিত হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে। সোমালিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তাদের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কূটনৈতিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় হর্ন অফ আফ্রিকা অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মিসর, তুরস্ক এবং জিবুতির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জরুরি ফোনালাপের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, কোনো দেশের বিচ্ছিন্ন অংশকে এভাবে স্বীকৃতি দেওয়া আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এমনকি আফ্রিকান ইউনিয়নও সোমালিল্যান্ডের এই স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করে সোমালিয়ার অখণ্ডতার প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে সোমালিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সোমালিল্যান্ড কার্যত নিজেদের স্বাধীন হিসেবে পরিচালনা করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা আপেক্ষিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখলেও বিশ্বের কোনো দেশই এতদিন তাদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। সোমালিল্যান্ড আশা করছে, ইসরায়েলের এই স্বীকৃতির পর অন্যান্য দেশগুলোও তাদের পথে হাঁটবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রবেশাধিকার এবং কূটনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করবে। তবে গত মার্চ মাসে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সোমালিল্যান্ডে সরিয়ে নেওয়ার যে গুঞ্জন উঠেছিল, সোমালিয়া ও সোমালিল্যান্ড উভয় পক্ষই তা সে সময় নাকচ করে দিয়েছিল।