এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বার ২০২৬ , ০১:০৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

জাতিসংঘে আজ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দিন

সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা নিয়ে বিশেষ বৈঠক এবং রোহিঙ্গা ও প্রবাসী নিরাপত্তা নিয়ে ঢাকার কূটনীতি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আজ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন। একই দিনে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

জাতিসংঘের কর্মসূচি অনুযায়ী, সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। ২৮ সেপ্টেম্বর শেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য, “Restoring trust, managing transformation: A United Nations that delivers for all.” অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন বাংলাদেশের কূটনীতিক খলিলুর রহমান। 

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বাংলায় সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ। সরকারি ব্রিফিং অনুযায়ী, বক্তব্যে গণতান্ত্রিক উত্তরণ, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। 

অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। বুধবার ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশ বহুপাক্ষিক ফোরামেও সহযোগিতা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। 

রোহিঙ্গা সংকট ঢাকার অগ্রাধিকার

জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের অবস্থান, এই সংকটকে শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাজনৈতিক ও টেকসই সমাধানের দিকে নিতে হবে। 

জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক বার্তাতেও রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। শরণার্থীদের অনির্দিষ্টকাল শুধু টিকে থাকার অবস্থায় রাখা সমাধান নয়। 

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা নিয়ে বিশেষ বৈঠক

আজ জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের প্লেনারি বৈঠক হবে। সাধারণ পরিষদের সভাপতি এতে সভাপতিত্ব করবেন। বৈঠকে একটি খসড়া ঘোষণা এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে। 

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা ও বাস্তুচ্যুতি দেশের উপকূলীয় জনপদ, উন্নয়ন ও জননিরাপত্তায় প্রভাব ফেলছে। প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমানযোগ্য জলবায়ু অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। 

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও রেমিট্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। ওই অঞ্চলে কর্মরত প্রায় ৮০ লাখ বাংলাদেশির নিরাপত্তার বিষয়টিও বৈঠকে তোলা হয়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট জাহাজের নিরাপদ চলাচলে ইরানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। 

শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম শান্তি আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। নারীর বিরুদ্ধে অপরাধের জবাবদিহিতার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশ নিরাপত্তা পরিষদের ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। 

২৩ সেপ্টেম্বর উন্নয়নের অধিকারবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায়ও বাংলাদেশ অংশ নেয়। সেখানে উন্নয়নের অধিকার বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের দ্বৈত উপস্থিতি

এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সাধারণ বিতর্কে দেশের বক্তব্য তুলে ধরবেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের কূটনীতিক খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটেও তাঁকে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নজর প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে

আজ বাংলাদেশের জন্য প্রধান আকর্ষণ প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ পরিষদ ভাষণ। রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা—কোন বিষয়গুলো তিনি কীভাবে তুলে ধরেন, সেদিকেই নজর থাকবে।

জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বাংলাদেশের প্রধান বার্তা হলো রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু ঝুঁকির ন্যায্য মোকাবিলা, প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা।