-
🇧🇩
বাংলা মূল ভাষা (Original)
-
🇺🇸
English English
অভ্যন্তরীণ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সামরিক শক্তি ব্যবহারের চেষ্টায় বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক আদেশে শিকাগো এলাকায় ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। ইলিনয় স্টেট কর্তৃপক্ষের আপত্তির মুখে আদালতের এই সিদ্ধান্ত অন্যান্য মার্কিন শহরেও ট্রাম্পের অনুরূপ পরিকল্পনাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
আদালতের তিন পৃষ্ঠার এক সংক্ষিপ্ত আদেশে বলা হয়েছে, মার্কিন শহরগুলোতে অভ্যন্তরীণ পুলিশি কার্যক্রমে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের জন্য প্রেসিডেন্টকে ঢালাও ক্ষমতা দেওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে আদালত ১৮৭৮ সালের একটি পুরনো আইনের কথা উল্লেখ করেছে, যা অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সামরিক বাহিনীর ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। আদালতের এই অবস্থানকে প্রেসিডেন্ট ক্ষমতার একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে রক্ষণশীল বিচারকদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের ইচ্ছা বাধাগ্রস্ত হলো।
আদালত স্পষ্ট করেছে যে, ফেডারেল কর্মী বা সম্পত্তি রক্ষার অজুহাতে ইলিনয়ে ন্যাশনাল গার্ডকে ফেডারেল বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করার মতো কোনো জোরালো আইনি যুক্তি প্রশাসন দেখাতে পারেনি। যদিও বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল এ্লিটো এবং নিল গোরসাচ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। বিচারপতি এ্লিটো তার ভিন্নমতাবলম্বী নোটে লিখেছেন, ফেডারেল কর্মকর্তাদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঝুঁকি উপেক্ষা করা উচিত নয়।
এদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট অভিবাসন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং সরকারি স্থাপনা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকার এই রায়কে গণতন্ত্রের জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। শিকাগোর মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই রায় অন্যান্য শহরকেও অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক মোতায়েন থেকে রক্ষা করবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পোর্টল্যান্ড, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওয়াশিংটন ডিসিতেও স্থানীয় নেতৃত্বের আপত্তি সত্ত্বেও ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছিলেন ট্রাম্প। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ন্যাশনাল গার্ড সাধারণত স্টেট গভর্নরদের অধীনে জরুরি পরিস্থিতিতে কাজ করে। কিন্তু ট্রাম্প একে ফেডারেল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পুলিশের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে ১৮৭৮ সালের পসি কমিটাটাস আইনের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। বিচারপতিরা তর্কের খাতিরে জানতে চেয়েছিলেন যে, আইন প্রয়োগে নিয়মিত বাহিনী বলতে সামরিক নাকি বেসামরিক বাহিনীকে বোঝানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন একে বেসামরিক বাহিনী বললেও আদালত ইলিনয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একমত হয়েছে যে এটি সামরিক বাহিনীকেই নির্দেশ করে। ফলে নিয়মিত সামরিক শক্তি দিয়ে যখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়, কেবল তখনই ন্যাশনাল গার্ডের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন কোনো জরুরি অবস্থা নেই বলে আদালত মনে করছে।
শিকাগোর শহরতলী ব্রডভিউতে ইমিগ্রেশন সেন্টারের সামনে বিক্ষোভকারীদের দমাতে এই সেনা মোতায়েন করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে স্থানীয় আদালত ও আইনজীবীরা তথ্য দিয়েছেন যে, বিক্ষোভের মধ্যেও ইমিগ্রেশন দপ্তরের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অচল হয়ে পড়েছে এমন দাবি ধোপে টেকেনি। প্রাক্তন গভর্নর এবং সামরিক নেতাদের একটি বড় অংশও প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।