প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬ , ১০:৪৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বিষয়টি নিয়ে আজ বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন করবেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ফলে বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। একই সঙ্গে ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাধ্যতামূলক। আর ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
বর্তমান সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এরই মধ্যে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড সফরে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই ঢাকায় ফিরেছেন। আজ দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তখনও তাঁর কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য ছিল না। তবে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবনের একাধিক সূত্র জানিয়েছিল, তিনি পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিদায়ের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পাঁচ বছরের সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই তাঁর রাষ্ট্রপতি পদে থাকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে, এই পরিবর্তন বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক রূপান্তর সম্পন্ন হবে।