এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৪২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল ইরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে দেওয়া যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। তবে প্রস্তাবটি বহন করে তেহরানে যাওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরাক সরকার। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়িদি সম্প্রতি ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর তেহরান সফরে যান। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরানের কাছে তুলে ধরেন। তবে ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে।

যদিও এ দাবি নাকচ করে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, তারা কোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে ইরানে যায়নি। ইরাকি নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন বাস্তবতাবিবর্জিত এবং অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে এমন তথ্য প্রকাশ করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে আপত্তি

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইরানের কয়েকজন অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো স্পষ্ট অবস্থান দেয়নি। এ কারণে তেহরান এমন কোনো অস্থায়ী সমঝোতায় আগ্রহী নয়।

ইরানের কর্মকর্তাদের মতে, হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু অনির্ধারিত রেখে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

তেহরানে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

ইরান সফরকালে আলি আল-জায়িদির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার ও জ্যেষ্ঠ আলোচক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান ও ইরাকের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, “তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মতো মধ্যস্থতাকারীর অভাব নেই। প্রকৃত সমস্যা হলো যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি, যা অযৌক্তিক, লোভী এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মানসিকতার প্রতিফলন।”

টানা ১৩তম দিনের হামলা

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে।

গত বৃহস্পতিবার টানা ১৩তম দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। খোররামবাদ, জাস্ক, আহভাজ, বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপে এসব হামলা হয়। আহভাজে চারজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বন্দর আব্বাসেও দুজন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। বাহরাইন ও কুয়েত দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।

এ ছাড়া ড্রোন হামলার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইরাকের ইরবিল বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যকে সতর্কবার্তা

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, চলমান সংঘাতে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করছে। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা দেবে, তাকে এর পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এই বক্তব্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়েছে।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বদা প্রস্তুত। যদিও যুক্তরাজ্য সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিরক্ষামূলক সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য, অব্যাহত সামরিক অভিযান এবং নতুন করে আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।