ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
ঢাকা অফিস • প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:২০ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

প্রবাসীদের জন্য আরও পাঁচ দেশে চালু হচ্ছে এনআইডি ও ভোটার নিবন্ধন সেবা

প্রবাসীদের জন্য আরও পাঁচ দেশে চালু হচ্ছে এনআইডি ও ভোটার নিবন্ধন সেবা

বাংলাদেশে প্রবাসীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিশ্বের আরও পাঁচটি দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা এবার ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এর ফলে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।

নতুন তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো বাহরাইন, সুইডেন, সিঙ্গাপুর, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড। এর মধ্যে সুইডেন ও সিঙ্গাপুরে কার্যক্রম উদ্বোধনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মাসেই নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা এসব দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম চালু করবেন। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বাহরাইনে উদ্বোধন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হলেও আগামী মাসের শুরুতে সেখানে কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশিরা সুইডেনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে এই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। কারণ, দেশ দুটির কনস্যুলার কার্যক্রম সুইডেন থেকেই পরিচালিত হয়। দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসীদের আবেদন গ্রহণের পর বাংলাদেশে তথ্য যাচাই করে এনআইডি প্রস্তুত করবে নির্বাচন কমিশন।

অন্যদিকে, পরিকল্পনায় থাকলেও আপাতত ফ্রান্সকে এই উদ্যোগের আওতায় আনা যাচ্ছে না। দেশটির বাংলাদেশ দূতাবাস প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে না পারায় সেখানে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে বিশ্বের ১৪টি দেশের ২৪টি কেন্দ্রে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। নতুন পাঁচটি দেশ যুক্ত হওয়ার ফলে এখন মোট ১৯টি দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই সেবার আওতায় আসবেন।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন শহরে এ কার্যক্রম চালু রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের পর গত পাঁচ মাসে এসব দেশ থেকে প্রায় এক লাখ নতুন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার ইতোমধ্যে এনআইডি পেয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবং দীর্ঘদিনের প্রবাসী দাবির প্রেক্ষাপটে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে পরিচালিত প্রকল্পের আওতায় সাত লাখ ৭২ হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি নিবন্ধন সম্পন্ন করেন এবং তাঁদের মধ্যে অধিকাংশের কাছে ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত চার লাখ ৫৮ হাজারেরও বেশি প্রবাসী তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

বিশ্বের প্রায় ১৬০টি দেশে বসবাসরত আনুমানিক দেড় কোটি বাংলাদেশি প্রবাসীর মধ্যে অন্তত ৫০ লাখকে ভোটাধিকার ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। যদিও প্রযুক্তিগত ও সময়গত সীমাবদ্ধতার কারণে সেই লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি, তবে ধাপে ধাপে কার্যক্রম সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে প্রবাসীদের জন্য ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াও আরও সহজ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আগের দুই ধাপের পরিবর্তে এখন এক ধাপের প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীরা অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের বায়োমেট্রিক তথ্য সরাসরি সিস্টেমে আপলোড করতে পারবেন। এতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং অতিরিক্ত যাচাইয়ের একটি ধাপ কমে যাবে।

বাংলাদেশের এই উদ্যোগকে প্রবাসী নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর ভোটার সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশিদের রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার প্রচেষ্টাও জোরদার হচ্ছে।