প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬ , ০৬:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশের সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে আর কোনো সাংবিধানিক বা আইনি বাধা নেই।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীতে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
তিনি অভিযোগ করেন, মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্রে অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করা হলেও সেখানে এমন কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য ও ব্যাখ্যা যুক্ত করা হয়েছে, যা তার জন্য একটি "নিরাপদ প্রস্থান" বা রাজনৈতিক দায়মুক্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হতে পারে। এনসিপির মতে, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে তার ভূমিকা নিয়ে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং বিচার হওয়া প্রয়োজন।
আখতার হোসেন বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তার দাবি, মো. সাহাবুদ্দিন অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে "ফ্যাসিবাদী শাসনের সহযোগী" হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন এবং তাকে বিচারের বাইরে রাখলে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি তার পদে বহাল থাকার সময় পর্যন্ত প্রযোজ্য ছিল। পদত্যাগের পর সেই সুরক্ষা আর কার্যকর নয় বলে এনসিপি মনে করে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
একই সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতিকে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক চাপের মুখেই তিনি পদত্যাগ করেন।
হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিরোধিতা করে এনসিপি সংসদে ও সংসদের বাইরে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এ ঘটনার প্রতিবাদে দলটির সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউটও করেন।
এনসিপির দাবি, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দলটি এ বিষয়ে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছে।