প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৪১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। সাম্প্রতিক সময়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা 'নিট'-এর প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে মোদি সরকারের মন্ত্রিসভায় এটিই প্রথম পদত্যাগের ঘটনা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে সামনে রেখে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনো ধরনের আইনি বা রাজনৈতিক জটিলতায় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়াই তাঁর প্রধান বিবেচ্য বিষয় ছিল।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের যুবসমাজের ন্যায়সংগত প্রত্যাশা ও আবেগের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধাশীল। নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তিনি এর নৈতিক দায় স্বীকার করেছেন। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর সরকার দ্রুত তদন্তের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইকে দেয় বলেও জানান তিনি।
ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, তাঁর লক্ষ্য ছিল পরীক্ষায় অনিয়মের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে না দেওয়া। তবে সংকটের এই সময়ে কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন, যা তাঁকে ব্যথিত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি বলেন, মোদির নেতৃত্বে দেশের সেবায় কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে তিনি গৌরবের বিষয় হিসেবে দেখেন।
নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিল্লি, কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছিল। আন্দোলনকারীরা পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ছিল।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরব ছিল ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দল। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক অনশন কর্মসূচিও পালন করেন। টানা ২৬ দিন অনশনের পর গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি তা প্রত্যাহার করেন।
এদিকে আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের আগে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া তারা কোনো আলোচনায় বসবে না। অবশেষে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
বিশ্লেষকদের মতে, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে সৃষ্ট জনমত ও রাজনৈতিক চাপই শেষ পর্যন্ত ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পথ তৈরি করেছে।