প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৮:২০ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তীব্র হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসানোর বিষয়ে ভাবনা চলছে, যিনি রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে দলটির একাধিক সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির চার জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত এক প্রধান বিচারপতি এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন জ্যেষ্ঠ আমলার নামও আলোচনায় এসেছে।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করায় স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের অবস্থান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে নির্ধারক হতে পারে।
রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অনেকেই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক মুখ হিসেবে বিবেচনা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা জাতীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞ ও পরিচিত ব্যক্তিত্ব। যদিও তিনি নিজে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বিষয়ে কোনো আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্নের অন্যতম নেতা। শিক্ষকতা পেশা থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর শারীরিক অসুস্থতা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের আলোচনায় রয়েছে।
ড. আব্দুল মঈন খানও বিএনপির প্রবীণ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। শিক্ষকতা ও রাজনীতি উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও তিনি দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অন্যতম সদস্য।
নজরুল ইসলাম খান দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একজন সৎ ও গ্রহণযোগ্য রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। আলোচনায় থাকা অন্য তিন নেতার মতো তিনি বর্তমানে সংসদ সদস্য না হলেও তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রেখেছে।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা একজন জ্যেষ্ঠ আমলাকেও রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। এর মাধ্যমে সাংবিধানিক পদটিকে আরও নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য করার বার্তা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
রাজনীতি বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরীর মতে, রাষ্ট্রপতি পদে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাঁর ভাষ্য, রাজনীতিবিদরা দীর্ঘ সময় দল ও রাষ্ট্রের জন্য কাজ করেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তবতা সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞতা থাকে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক বিবেচনার ওপর।
বাংলাদেশের বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত হলেও, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী ও রাজনৈতিক বার্তা বহন করবে।