প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৮:১৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশ নিজেকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবনের একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকার নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬ সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেছে।
দুই দিনব্যাপী এই সামিটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকাল সোয়া ১১টায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এর আগে উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিয়ে তিনি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠনে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে অবহিত হন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকেও পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতের সম্ভাবনা ও অগ্রযাত্রা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
‘বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই সামিট যৌথভাবে আয়োজন করেছে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার। আয়োজকদের মতে, দেশের সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রোবোটিক্স শিল্পের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও অংশীদারদের সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
সামিটে সরকারি নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদরা অংশ নেন। তাঁরা বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও মানবসম্পদ উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন।
বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও সামিটে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছে গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, এনএক্সপি, অ্যাপ্লাইড ম্যাটেরিয়ালস, স্যানডিস্ক, ক্রেডো এবং ভিয়েতনাম সেমিকন্ডাক্টর অ্যালায়েন্স অ্যান্ড পার্টনারশিপ। এসব প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিকে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সামিটের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬-এ দেশের তরুণ উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। মোট ৩৫টি স্টলে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি, ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমসহ বিভিন্ন ডিপ-টেক উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, আইসিটি বিভাগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। এছাড়া বক্তব্য দেন সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ জাব্বার ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পারড্যু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং সিলিকন রিভার ইনিশিয়েটিভের চিফ আর্কিটেক্ট প্রফেসর মুহাম্মদ মোস্তফা হুসাইন।
সামিটের দ্বিতীয় ও সমাপনী দিনে অনুষ্ঠিত হবে ক্রিস্টে ফেলো রিসার্চ সিম্পোজিয়াম, যেখানে দেশের উদীয়মান গবেষকেরা তাঁদের গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করবেন। একই সঙ্গে প্রকাশ করা হবে আটটি কৌশলগত জাতীয় দলিল, যার মধ্যে রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর সুপারিশমালা, ট্যালেন্ট রোডম্যাপ ২০৩০, ইকোসিস্টেম রোডম্যাপ, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব কাঠামো এবং ডিপ-টেক খাতের বাণিজ্যিকীকরণ পরিকল্পনা।
আয়োজকদের ভাষ্য, এসব নীতিগত দলিল বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে একটি বাস্তবভিত্তিক রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় এই সামিটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।