এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৪০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, নিরাপদ স্থানে সরানো হলো ২ লাখের বেশি মানুষ

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরার মধ্যে ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত ফ্রান্স ও স্পেন। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে দুই দেশে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্স সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে, আর স্পেনে জারি করা হয়েছে জাতীয় জরুরি অবস্থা।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরোন্দ ও লান্দ অঞ্চলে দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বোর্দো শহরের আশপাশের চারটি এলাকা থেকে প্রায় ৬০ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ক্যাপ ফেরেট উপদ্বীপসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় অন্তত ৮০টি বাড়িঘর পুড়ে গেছে। দাবানলে এখন পর্যন্ত ১৯ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি ধ্বংস হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে অন্তত ৫০ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ বিমান ও হেলিকপ্টার সহায়তা পেতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রটেকশন মেকানিজমের সহায়তা চেয়েছে ফ্রান্স।

অন্যদিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলে তিনটি পৃথক দাবানল একত্রিত হয়ে বিশাল অগ্নিকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। দেশটির জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান কার্লোস নোভিলো জানিয়েছেন, আগুনের তীব্রতা এত বেশি যে অনেক স্থানে সরাসরি আগুন নেভানোর পরিবর্তে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্পেনে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে নিরাপত্তার স্বার্থে ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। মাদ্রিদ অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট ইসাবেল দিয়াজ আয়ুসো এ ঘটনাকে অঞ্চলটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

মাদ্রিদ অঞ্চলে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর এবং আভিলা প্রদেশে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। রোবলেদো দে চাভেলা, ফ্রেসনেদিয়াস দে লা অলিভিয়া, নাভাস দেল রে ও কোলমেনার দেল আররোয়োসহ একাধিক পৌরসভা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি শহরে লকডাউনও জারি রয়েছে।

মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলের ভিলামান্টা গ্রামের ৮৬ বছর বয়সী বাসিন্দা একোলোগিও ক্যাব্রেরা বলেন, আগুনের সামনে টিকে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জানান, দমকলকর্মীরা পৌঁছানোর আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাগানের পানির পাইপ দিয়ে নিজেদের বাড়ি রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী খরা, অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ এবং প্রবল বাতাসের কারণে দাবানল দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে দাবানলের ঝুঁকি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছর গত দুই দশকের গড়ের তুলনায় অনেক বেশি এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে।

ফ্রান্স ও স্পেনের কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। আগুনের বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং প্রয়োজন হলে আরও মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।