প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৮:২১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক প্রস্তাব জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থনে গৃহীত হয়েছে। সংলাপ, সহনশীলতা, সংহতি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে গৃহীত এ প্রস্তাবকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের শান্তিকেন্দ্রিক কূটনৈতিক উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে অব্যাহত সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান এবং জাতিসংঘ সনদের মূলনীতির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার অপরিহার্য।
প্রস্তাবটির প্রতি ব্যাপক সমর্থন দেওয়ায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, বিভাজনের পরিবর্তে সংলাপ, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা এবং অসহিষ্ণুতার পরিবর্তে পারস্পরিক বোঝাপড়াকে এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের উদ্যোগে ১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে গৃহীত হয় ‘শান্তি ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি’ বিষয়ক এই প্রস্তাব। গত প্রায় ২৫ বছর ধরে এটি জাতিসংঘের শান্তি ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বিষয়ক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য হলো বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান, সহনশীলতা, সংহতি ও অহিংসার মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে সংঘাত প্রতিরোধ, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানানো।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক বিভাজনের সময়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের এ উদ্যোগ দেশটির শান্তিকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।