-
🇧🇩
বাংলা মূল ভাষা (Original)
-
🇺🇸
English English
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য পথ খুঁজতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ মস্কো ও কিয়েভ সফরে যাচ্ছেন। তাদের সফরের আগে রাশিয়ার সঙ্গে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার থেকে সফর শুরু করবেন কুশনার ও উইটকফ। শনিবার মস্কোর ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারা। পরদিন রোববার কিয়েভে জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে তাদের। সফরের বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন দুই দূত।
যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, তিনি উইটকফ ও কুশনারকে সমঝোতার সম্ভাবনা যাচাই করতে পাঠিয়েছেন। তার ভাষায়, দুজনই দক্ষ আলোচক এবং তারা কোনো একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন।
ট্রাম্পের দূতদের সফর নির্বিঘ্ন করতে সাময়িকভাবে বিমান হামলা বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, আলোচনার পরিবেশ তৈরি এবং দূতদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আকাশসীমা স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন।
জেলেনস্কির প্রস্তাব অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক ও যাতায়াতের সময় ইউক্রেন কোনো বিমান হামলা চালাবে না। একইভাবে রাশিয়াকেও হামলা বন্ধ রেখে এর প্রতিফলন ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধের অবসানে তার দেশ একটি ‘বাস্তব বিকল্প’ খুঁজছে। এখন কিয়েভের নজর ট্রাম্পের দূতদের ওপর। তারা কী প্রস্তাব নিয়ে আসেন এবং মস্কো তাতে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটিই দেখার বিষয়। তবে জেলেনস্কির প্রস্তাবের বিষয়ে এখনো পুতিন বা রুশ সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও ইউক্রেনে রুশ হামলা অব্যাহত রয়েছে। জেলেনস্কির দাবি, ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সদর দপ্তর লক্ষ্য করে কিয়েভে দিনের বেলায় বিমান হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে দিনের বেলার হামলা বেড়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এর আগে ওদেসা অঞ্চলে রাতভর রুশ বিমান হামলায় একজন নিহত এবং এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। নিপ্রো শহরে পৃথক হামলায় পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
এদিকে কিয়েভ ওব্লাস্টে রুশ বিমান হামলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) একটি গুদামও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কোনো প্রাণহানি না হলেও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জামের মজুত নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইউক্রেনের অভ্যন্তরেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
তিনি বলেছেন, দুই সংস্থাকেই এ ঘটনার জন্য জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। তাদের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে ইউক্রেনকে দেওয়া মার্কিন আর্থিক সহায়তার অর্থ ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে ফেরত চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইউক্রেন ও ন্যাটোকে যুক্তরাষ্ট্র শত শত কোটি ডলার দিয়েছে এবং ইউরোপ চাইলে এসব অর্থ পরিশোধ করতে পারত।
ট্রাম্প বলেন, কিছুটা দেরিতে হলেও এখন ওই অর্থ ফেরত চাওয়া হবে। তবে ইউরোপের কোন কোন দেশের কাছ থেকে অর্থ ফেরত চাওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
এদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বাল্টিক সাগরে নজরদারির অভিযোগ উঠেছে। পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত সেন্টার ফর ইস্টার্ন স্টাডিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বেসামরিক জাহাজ বাল্টিক সাগরের জ্বালানি অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সমুদ্রতলের কেবল পর্যবেক্ষণ করছে।
পোল্যান্ড এ ধরনের তৎপরতাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। তবে মস্কো এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যেই ট্রাম্পের দূতদের মস্কো ও কিয়েভ সফর তাই নতুন কূটনৈতিক সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় ধরনের অনিশ্চয়তাও তৈরি করেছে। পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনার পর যুদ্ধবিরতি কিংবা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।