ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবার ২০২৫, ১২:১১ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আলোচিত প্রিন্স অ্যান্ড্রুর রাজ উপাধি ত্যাগ

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আলোচিত প্রিন্স অ্যান্ড্রুর রাজ উপাধি ত্যাগ

একসময় তিনি ছিলেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রিয় সন্তান ও ব্রিটিশ রাজপরিবারের অন্যতম জনপ্রিয় সদস্য। তরুণ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর ছিল বিপুল জনপ্রিয়তা। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই প্রিন্স অ্যান্ড্রু এখন পরিচিত এক ভিন্ন কারণে—এক কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে।

বর্তমানে ৬৫ বছর বয়সী প্রিন্স অ্যান্ড্রু প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ছোট ছেলে এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই। শুক্রবার এক ব্যক্তিগত বিবৃতিতে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ডিউক অব ইয়র্কসহ তাঁর সব রাজ উপাধি ও সম্মান ত্যাগ করছেন।

অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যিনি নারী পাচার ও শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। ভার্জিনিয়া জিউফ্রি নামের এক নারী ২০০১ সালে অভিযোগ করেন, ১৭ বছর বয়সে তিনি প্রিন্স অ্যান্ড্রুর হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হন। পরে জিউফ্রি মানসিক চাপে আত্মহত্যা করেন বলে তাঁর পরিবার দাবি করে।

এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই বাকিংহাম প্যালেসের ওপর প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ বাড়ে। অবশেষে তিনি নিজেই সব উপাধি ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাজা, আমার নিকটাত্মীয় ও পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে আমার বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগগুলো রাজপরিবারের দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। তাই আমি সব উপাধি ও সম্মান ত্যাগ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি পাঁচ বছর আগে জনজীবন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি, এবং তাতে আমি এখনো অটল। রাজপরিবার ও দেশের স্বার্থেই আমি আর রাজপদবি ব্যবহার করব না। তবে আমি আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করছি।’

বিবিসি জানায়, রাজা চার্লস ও যুবরাজ উইলিয়ামের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও রাজ উপাধি ত্যাগ করলেও তিনি “প্রিন্স” পদবি ব্যবহার করতে পারবেন, তবে আর “ডিউক অব ইয়র্ক” থাকবেন না।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ২০২২ সালে তাঁর সামরিক ও রাজকীয় মর্যাদা প্রত্যাহার করেছিলেন। তখন থেকেই অ্যান্ড্রু আর ‘হিজ রয়্যাল হাইনেস’ উপাধি ব্যবহার করতে পারতেন না। তিনি রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব থেকেও বাদ পড়েছিলেন।

এ ছাড়া গত কয়েক বছরে আর্থিক অনিয়ম, চীনা গুপ্তচরের সঙ্গে সম্পর্ক এবং এপস্টেইন–কাণ্ডে তাঁর নাম একাধিকবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাঁর সাবেক স্ত্রী সারাহ ফার্গুসনও আর “ডাচেস অব ইয়র্ক” থাকবেন না, যদিও তাঁদের দুই কন্যা রাজকীয় উপাধি বহাল রাখবেন।

তবে প্রিন্স অ্যান্ড্রু উইন্ডসরের ‘রয়্যাল লজ’ বাড়িতে বসবাস অব্যাহত রাখবেন, যা তাঁর ব্যক্তিগত ইজারায় ২০৭৮ সাল পর্যন্ত বৈধ।

২০১৯ সালে বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে অ্যান্ড্রু দাবি করেছিলেন, ২০১০ সালের পর তিনি আর এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। কিন্তু প্রকাশিত কয়েকটি ইমেইল বার্তা তাঁর সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি