ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বার ২০২৫, ০৬:৫৩ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

মুসলিম ব্রাদারহুডকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করলেন ট্রাম্প

মুসলিম ব্রাদারহুডকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিসর, লেবানন ও জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুড শাখাগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইসরায়েলের বিরোধীদের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে সোমবার এ উদ্যোগ নেয় হোয়াইট হাউস।

ডিক্রিতে বলা হয়েছে, জর্ডানের ব্রাদারহুড নেতারা হামাসকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে এবং লেবাননের শাখা আল-জামা আল-ইসলামিয়া হামাস ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুক্ত থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া দাবি করা হয়, মিসরের এক ব্রাদারহুড নেতা গাজা যুদ্ধের সময় মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে সহিংস হামলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সে দাবির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ডিক্রিতে উল্লেখ নেই। মিসরে ব্রাদারহুড ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ এবং কার্যত ভূগর্ভস্থ অবস্থায় আছে।

হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মুসলিম ব্রাদারহুডের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, কারণ এ সংগঠন যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্রদের স্বার্থে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে। ডিক্রি অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে গোয়েন্দা প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। এরপর ৪৫ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।

এমন তালিকাভুক্তি কার্যকর হলে সংগঠনের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও সহায়তা দেওয়া আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া সদস্য বা সাবেক সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশও নিষিদ্ধ হতে পারে। ডিক্রি অনুযায়ী অন্যান্য শাখাগুলোকেও একইভাবে কালো তালিকায় যুক্ত করার পথ খুলে যাচ্ছে।

১৯২৮ সালে মিসরীয় আলেম হাসান আল-বান্নার প্রতিষ্ঠিত মুসলিম ব্রাদারহুড মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশে রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে সক্রিয়। এসব শাখা নিজেদের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পক্ষে দাবি করে। তবে অঞ্চলের কিছু দেশ সংগঠনটিকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো বহুদিন ধরে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে। সমালোচকদের মতে, এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক বিরোধী মত দমন এবং স্বৈরতান্ত্রিক শক্তিকে আরো উৎসাহিত করতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার সুযোগও বাড়িয়ে দিতে পারে।

আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত মার্কিন মুসলিম অধিকারসংগঠন বা মানবিক সংগঠনগুলোর কাজে প্রভাব ফেলবে না। তিনি জানান, বিভিন্ন ডানপন্থী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে আসছে যে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সংগঠনগুলো নাকি ব্রাদারহুডের শাখা।

সম্প্রতি টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট মুসলিম ব্রাদারহুড ও সিএআইআরকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দেন। এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে সিএআইআর।

বিশ্লেষক রামি খুরি বলেন, ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমর্থকদের খুশি রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে এর বাস্তব প্রভাব খুব কম। তিনি মনে করেন, বিষয়টি ইসরায়েলপন্থী মার্কিন ডানপন্থী ভোটারদের সন্তুষ্ট করার কৌশল মাত্র। গাজার যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রগতি দেখাতে চাইছে, কিন্তু বাস্তবে বার্তা পাঠানো ছাড়া এই পদক্ষেপের খুব বেশি গুরুত্ব নেই।