ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

ব্রাজিলের পণ্যে ২৫ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র

ব্রাজিলের পণ্যে ২৫ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র

ব্রাজিল থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২২ জুলাই থেকে এই শুল্ক কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে গোশত, কফি, নির্দিষ্ট কিছু উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হয় না এমন কিছু পণ্য এ শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ জুলাই) এ ঘোষণা দেয় মার্কিন প্রশাসন। এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন শুল্কনীতি প্রণয়নের পাশাপাশি ব্রাজিলের সঙ্গে আলোচনার পথও খোলা রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ব্রাজিলের অন্যায্য বাণিজ্যিক নীতির কারণে মার্কিন কর্মী ও উৎপাদকরা গুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এসব সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে ওয়াশিংটন ব্রাজিলের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।

এর আগে মার্কিন তদন্ত প্রতিবেদনে ব্রাজিলের কয়েকটি নীতিকে 'অযৌক্তিক', 'বৈষম্যমূলক' এবং 'মার্কিন বাণিজ্যের জন্য প্রতিবন্ধক' হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই আইনি বিধানের আওতায় চলতি বছর আরও কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ব্রাজিলের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা 'পিক্স' মার্কিন ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলোর জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করছে। পাশাপাশি ডিজিটাল বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, ব্রাজিল যেভাবে মেক্সিকো ও ভারতকে বিশেষ শুল্ক সুবিধা দিয়ে থাকে, যুক্তরাষ্ট্রও তেমন অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা প্রত্যাশা করে। যদিও সেকশন ৩০১ তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে যে সমালোচনা উঠেছে, তা নাকচ করে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ব্রাজিলের কাছ থেকে কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ আশা করছে না। তবে পাল্টা বাণিজ্যিক চাপ প্রয়োগ করা হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তাও দিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে সম্প্রতি দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে তারা।

চলতি মাসে ওয়াশিংটনে ইউএসটিআরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে ব্রাজিলের অনুদারপন্থি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন শুল্ক আরোপ না করার আহ্বান জানান। ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বড় ছেলে ফ্লাভিওর দাবি, এই শুল্ক আরোপ হলে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।

আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই শুল্ক আরোপ শুধু দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কই নয়, ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, গত বছর জাইর বলসোনারোর কথিত অভ্যুত্থান চেষ্টার বিচারকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের ওপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করেছিল। পরবর্তীতে দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে সেই শুল্কের বড় অংশ প্রত্যাহার করা হয়। নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণায় ওয়াশিংটন ও ব্রাসিলিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্কে আবারও নতুন উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।