এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬ , ০৬:০২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর বসছে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নতুন বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে।

মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপ এসেছে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের কয়েকটি বিস্তৃত শুল্কনীতিকে বাতিল করার পর। আদালতের রায়ের পর বিদেশি পণ্যের ওপর কর আরোপে বিকল্প আইনগত পথ ব্যবহার করছে হোয়াইট হাউস। নতুন নীতির আওতায় বিভিন্ন দেশের জন্য ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই শুল্কের আওতায় থাকা দেশগুলো থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ আসে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো ও শ্রীলঙ্কাসহ বেশ কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদালতের সিদ্ধান্তে একটি নীতিগত হাতিয়ার সীমিত হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বাণিজ্যিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে অন্যান্য আইনগত উপায় ব্যবহার করবেন। ব্যবসায়ীদের জন্য একটি স্থিতিশীল ও পূর্বাভাসযোগ্য শুল্ক কাঠামো গড়ে তুলতেই নতুন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছেন।

মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ এবং তা প্রতিরোধে বিভিন্ন দেশের উদ্যোগ পর্যালোচনার পর এই শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কয়েক মাস ধরে পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জ্বালানি তেল ও গ্যাস এবং যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন সম্ভব নয় এমন কিছু পণ্যকে এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।

এদিকে, ব্রাজিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পারস্পরিক বাণিজ্যিক সমতার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, মেক্সিকোর অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, কার্যকর শুল্ক কাঠামোয় দেশটির জন্য বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ধারা ৩০১-এর অধীনে শুল্ক আরোপের পথকে আইনগতভাবে বেশি শক্তিশালী মনে করছে। কারণ, এই ধারার আওতায় আরোপিত শুল্ক আদালতে টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি এবং দীর্ঘ সময় কার্যকর রাখা যায়।

নতুন শুল্ক কার্যকরের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ যুক্তরাষ্ট্রমুখী রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম, তবে দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।