ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫২ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

প্রশাসনিক সংস্কারে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন জোহরান মামদানী

প্রশাসনিক সংস্কারে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন জোহরান মামদানী

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে প্রথম সপ্তাহেই প্রশাসনিক সংস্কারে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন জোহরান মামদানী। 

সোমবার জারি করা দুটি নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তিনি সিটির গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্র এবং কারাগারগুলোতে মানবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে বিতর্কিত রাইকার্স আইল্যান্ড কারাগার এবং অভিবাসী সংকটের সময় চালু হওয়া অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর নিয়মাবলীতে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

মেয়রের প্রথম আদেশে দীর্ঘদিনের জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ানো হলেও সিটির কারাগারগুলোতে বিদ্যমান আইন মেনে চলার জন্য প্রশাসনকে ৪৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বন্দীদের দীর্ঘ সময় নির্জন কারাবাস থেকে মুক্তি দেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি ও আবাসন সংক্রান্ত মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় রাইকার্স আইল্যান্ডে আইন লঙ্ঘনের যে ধারা তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনের লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মামদানী।

দ্বিতীয় আদেশের লক্ষ্য হলো সিটির গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ফিরিয়ে আনা। অভিবাসী সংকটের দোহাই দিয়ে সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্নার সুবিধা এবং ধারণক্ষমতার নির্দিষ্ট নিয়মগুলো স্থগিত করেছিলেন। মামদানির নতুন নির্দেশে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে, যেখানে বর্ণনা থাকবে কীভাবে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে পুনরায় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কোডের আওতায় আনা হবে। লিগ্যাল এইড সোসাইটি এবং কোয়ালিশন ফর দ্য হোমলেস এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পূর্বের জরুরি অবস্থার কাঠামো আর প্রয়োজন নেই।

রাইকার্স আইল্যান্ড নিয়ে মামদানীর অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। যদিও তিনি সরাসরি কারাগারটি বন্ধের কোনো দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা করেননি, তবে বন্দীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। গত বছর কারাগারে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন এখন আদালতের পর্যবেক্ষকের সঙ্গে মিলে নির্জন কারাবাস নিষিদ্ধ করার আইনটি কার্যকর করতে চায়। সাবেক মেয়র এই আইনটি আটকাতে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন, যা এখন বাতিল হতে যাচ্ছে।

কারা কর্মকর্তাদের ইউনিয়ন অবশ্য মেয়রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, সহিংস বন্দীদের আলাদা রাখা না গেলে কারারক্ষীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। ইউনিয়ন সভাপতি বেনি বোসিও মেয়রকে কারাগার পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতি দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তা সত্ত্বেও, মানবাধিকার কর্মী এবং আইনজীবীরা মনে করছেন যে মামদানীর এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো নিউ ইয়র্কের বিচার ব্যবস্থায় মানবিক মর্যাদা ফিরিয়ে আনার পথে একটি মাইলফলক।