ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবার ২০২৫, ০৬:০০ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত আফগান ক্রিকেটারসহ ৪০ জন

পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত আফগান ক্রিকেটারসহ ৪০ জন

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির তিনজন পেশাদার ক্রিকেটারও। ভয়াবহ এই ঘটনার পর আসন্ন ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)।

আগামী নভেম্বর মাসে পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এই সিরিজটি। তবে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) গভীর রাতে কান্দাহারের স্পিন বোলদাক জেলায় চালানো বিমান হামলার পর বোর্ড এক বিবৃতিতে জানায়, নিহতদের স্মরণে ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে তারা সিরিজটি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে।

এসিবির ভাষায়, “আমাদের খেলোয়াড়, নাগরিক ও ক্রীড়া সম্প্রদায়ের ওপর এই আক্রমণ অকল্পনীয়। শ্রদ্ধা ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” বোর্ড হামলাটিকে “কাপুরুষোচিত ও মানবতাবিরোধী” বলে আখ্যা দিয়েছে।

এসিবি নিশ্চিত করেছে, নিহত তিন ক্রিকেটার হলেন পাকতিকা প্রদেশের উরগুন জেলার কবির, সিবগাতুল্লাহ ও হারুন। তাঁরা প্রাদেশিক রাজধানী শারানায় একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় এক জমায়েতে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে হামলাটি ঘটে। এছাড়া একই ঘটনায় পাঁচজন সাধারণ নাগরিক নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় কর্মকর্তা করিমুল্লাহ জুবাইর আঘা জানিয়েছেন, “বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। এখন পর্যন্ত ৪০ জন নিহত ও ১৭০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”

টোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমান হামলা সরাসরি আবাসিক এলাকাগুলোতে আঘাত হানে, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক অঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

বেঁচে যাওয়া হাজী বাহরাম বলেন, “আমি এমন অন্যায় কখনও দেখিনি। যারা নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করে, তারা আমাদের নারী ও শিশুদের ঘরে বোমা ফেলেছে। সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত ছিল।”

আরেক আহত ব্যক্তি নুরগালি জানান, “এখানে কোনো সামরিক উপস্থিতি ছিল না, শুধু সাধারণ মানুষ ও একটি স্থানীয় বাজার ছিল। তারপরও আমাদের ওপর বোমা ফেলা হয়েছে।”

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিমান হামলার পাশাপাশি সীমান্ত পেরিয়ে আর্টিলারি গোলাবর্ষণও হয়, যা নক্লি, হাজী হাসান কেলয়, ওয়ারদাক, কুচিয়ান, শোরাবাক ও শহীদসহ একাধিক গ্রামে আঘাত হানে। এতে বহু বাড়িঘর ধ্বংস ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। নিহতদের দাফন করা হয়েছে স্পিন বোলদাকের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে।

এই ঘটনার পর আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক মহলেও হামলাটি নিন্দা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এক বিবৃতিতে একে “জাতীয় গর্ব ও ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি” হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস