ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বার ২০২৫, ০১:১৭ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

ন্যাটোর বিরুদ্ধে সীমিত হামলার সক্ষমতা রাশিয়ার, সতর্ক করলেন জার্মান জেনারেল

ন্যাটোর বিরুদ্ধে সীমিত হামলার সক্ষমতা রাশিয়ার, সতর্ক করলেন জার্মান জেনারেল

জার্মান সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল আলেকজান্ডার সোলফ্র্যাঙ্ক সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া যেকোনো সময় ন্যাটো ভূখণ্ডে সীমিত আকারে হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে। তবে রাশিয়া এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, তা নির্ভর করবে পশ্চিমা দেশগুলোর রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানের ওপর।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বার্লিনে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোলফ্র্যাঙ্ক বলেন, “রাশিয়ার বর্তমান সামরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধ শক্তির দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা আগামীকালই ন্যাটোর কোনো অঞ্চলে ছোট আকারের আক্রমণ শুরু করতে পারে—দ্রুত, আঞ্চলিক এবং সীমিত মাত্রায়। বড় পরিসরের যুদ্ধের মতো কিছু নয়, কারণ ইউক্রেন যুদ্ধেই তারা এখন ব্যস্ত।”

জার্মানির যৌথ অপারেশন কমান্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সোলফ্র্যাঙ্ক। তিনি বলেন, যদি রাশিয়া তাদের অস্ত্র উৎপাদন ও সামরিক প্রস্তুতি বাড়াতে থাকে, তাহলে ২০২৯ সালের শুরুর দিকেই তারা ৩২ সদস্যবিশিষ্ট ন্যাটো জোটের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অবশ্য আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান ছিল ন্যাটোর সম্প্রসারণবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ।

বার্লিনের উত্তরে অবস্থিত সদর দপ্তর থেকে কথা বলতে গিয়ে সোলফ্র্যাঙ্ক বলেন, ইউক্রেনে ক্ষয়ক্ষতির পরও রাশিয়ার বিমানবাহিনী এখনো শক্তিশালী, এবং তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী প্রায় অক্ষত রয়েছে। যদিও কৃষ্ণ সাগর নৌবহর বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে, অন্য নৌবহরগুলো এখনো কার্যকর।

তিনি জানান, রাশিয়ার স্থলবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মস্কো মোট সৈন্যসংখ্যা ১৫ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তাদের হাতে যথেষ্ট পরিমাণ প্রধান যুদ্ধ ট্যাঙ্ক রয়েছে, যা দিয়ে সীমিত আক্রমণ চালানো সম্ভব হতে পারে।

সোলফ্র্যাঙ্ক বলেন, রাশিয়া ন্যাটোর বিরুদ্ধে হামলা চালাবে কি না, তা নির্ভর করছে তিনটি বিষয়ের ওপর—তাদের সামরিক শক্তি, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত। তার মতে, “এই তিনটি বিষয় একত্রে দেখলে মনে হয়, রাশিয়ার হামলার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এটি ঘটবে কি না, তা অনেকাংশে আমাদের নিজের আচরণ এবং প্রতিরোধ কৌশলের ওপর নির্ভর করবে।”

তিনি আরও বলেন, রাশিয়া বর্তমানে অপ্রচলিত বা হাইব্রিড যুদ্ধ কৌশল ব্যবহার করছে, যার মধ্যে রয়েছে ড্রোন অনুপ্রবেশ, তথ্যযুদ্ধ ও ভয় সৃষ্টির প্রচেষ্টা। “রাশিয়ানরা একে বলে নন-লিনিয়ার ওয়ারফেয়ার,” ব্যাখ্যা করে সোলফ্র্যাঙ্ক বলেন, “এটি হলো প্রচলিত অস্ত্র ব্যবহারের আগের ধাপের যুদ্ধ—যেখানে ভয় দেখিয়ে, অনিশ্চয়তা তৈরি করে এবং গুপ্তচরবৃত্তির মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার চেষ্টা চলে।”

তিনি বলেন, এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো ন্যাটোকে উসকানি দেওয়া, তাদের প্রতিক্রিয়া পরিমাপ করা এবং জোটের মধ্যে ভয় ও বিভাজন তৈরি করা।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স