ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০২ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

নোবেল না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: এখন লক্ষ্য শুধু মার্কিন স্বার্থ

নোবেল না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: এখন লক্ষ্য শুধু মার্কিন স্বার্থ

শান্তি নিয়ে ভাবার দায়বদ্ধতা থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গাহর স্টোরকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি সাফ জানিয়েছেন, তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ায় তিনি এখন থেকে কেবল মার্কিন স্বার্থকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। সোমবার আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই নজিরবিহীন কূটনৈতিক পত্রবিনিময়ের তথ্য সামনে এসেছে।

চিঠিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় লিখেছেন, প্রিয় ইয়োনাস, যেহেতু আপনার দেশ আটটিরও বেশি যুদ্ধ থামানোর পরেও আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই আমি আর কেবল শান্তি নিয়ে ভাবার কোনো বাধ্যবাধকতা অনুভব করি না। যদিও শান্তি সবসময় প্রাধান্য পাবে, তবে এখন আমি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা ভালো এবং সঠিক তা নিয়েই ভাবব। মূলত নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড যখন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বার্তা পাঠায়, তখন তার জবাবেই এই কড়া প্রতিক্রিয়া দেখান ট্রাম্প।

কূটনৈতিক এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। ট্রাম্প দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া বিশ্ব নিরাপদ নয়। তার মতে, রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান হুমকি থেকে এই ভূখণ্ডকে রক্ষা করা ডেনমার্কের একার পক্ষে অসম্ভব। তিনি গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণকে আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য বলে মনে করছেন।

তবে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গাহর স্টোর ট্রাম্পের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং নরওয়ে এই সার্বভৌমত্বকে পূর্ণ সমর্থন দেয়। নোবেল পুরস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নয় বরং একটি স্বাধীন কমিটি এই পুরস্কার প্রদান করে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপ করাকে তিনি একটি ভুল পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ব্রিটেনসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প, যা জুন মাসে ২৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্ককে সহায়তা করার জন্য এসব দেশ সামান্য সেনাসদস্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলে ট্রাম্প একে বিপজ্জনক খেলা বলে সতর্ক করেন। জবাবে ইউরোপীয় দেশগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক আইন ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চিঠিতে তার আমেরিকা ফার্স্ট নীতির চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ট্রাম্প ব্যক্তিগত সম্মান বা স্বীকৃতিকে (যেমন নোবেল পুরস্কার) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা প্রথাগত কূটনীতির পরিপন্থী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থান আসলে আর্কটিক অঞ্চলে খনিজ সম্পদ এবং কৌশলগত আধিপত্য বিস্তারের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি মূলত তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ছাড় আদায় করার একটি কৌশল। যদি এই শুল্ক যুদ্ধ শুরু হয়, তবে ট্রান্স-আটলান্টিক বাণিজ্য সম্পর্কে এমন ফাটল ধরবে যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর দেখা যায়নি। এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি এবং সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।