ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ৩১ আগষ্ট ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

নেপাল–চীন সীমান্তে ভয়াবহ দুর্যোগ: মৃত্যু প্রায় ৮০০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

নেপাল–চীন সীমান্তে ভয়াবহ দুর্যোগ: মৃত্যু প্রায় ৮০০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

হিমবাহ ধসের পর পাহাড়ি উপত্যকায় নেমে আসে কাদা-পাথর ও পানির স্রোত; আবহাওয়া ও দুর্গম ভূখণ্ডে ব্যাহত উদ্ধারকাজ

নেপাল–চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যু প্রায় ৮০০ জনে পৌঁছেছে। নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে এখনও ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। গত বুধবার হিমবাহ ধসের পর বরফ, পাথর, কাদা ও পানির বিশাল স্রোত পাহাড়ি উপত্যকা ও নদীপথ ধরে নিচে নেমে এলে এই বিপর্যয় ঘটে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপালে অন্তত ৭৮১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৫০২ জন। অন্যদিকে তিব্বতের চীনা অংশে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শত শত মানুষ এখনও নিখোঁজ। দুই দেশের মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯৭, যা প্রায় ৮০০।

হিমবাহ ধস থেকেই ভয়াবহ বিপর্যয়

বুধবার হিমালয়ের একটি হিমবাহ ধসে পড়ার পর বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটি পাহাড়ি নদী ব্যবস্থায় নেমে আসে। এর ফলে আকস্মিক বন্যা ও ব্যাপক কাদাধস সৃষ্টি হয়। প্রবল স্রোতে বহু বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য স্থাপনা ভেসে যায় বা কাদার নিচে চাপা পড়ে।

বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের নুওয়াকোট, রাসুয়া ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিভিন্ন এলাকা। চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগে পাহাড়ি জনপদের পাশাপাশি পর্যটক ও বিদেশি নাগরিকেরাও নিখোঁজ হয়েছেন। চীনের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে নিখোঁজদের মধ্যে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

উদ্ধারকাজে বাধা আবহাওয়া ও নতুন বন্যার শঙ্কা

নেপাল ও চীনের উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের সন্ধানে তৎপরতা চালালেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূখণ্ডে অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টি, নদীর পানি বৃদ্ধি এবং নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কার কারণে কিছু এলাকায় উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

দুর্যোগের সময় সৃষ্ট একটি কৃত্রিম হ্রদ উপচে পড়ার পর নতুন বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছিল। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে অভিযান আবার শুরু হয়।

সুড়ঙ্গে আটকে থাকার আশঙ্কা কর্মীদের

সবচেয়ে জটিল উদ্ধার অভিযানগুলোর একটি চলছে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায়। সেখানে একটি সুড়ঙ্গের ভেতরে কয়েক শ মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি, ড্রোন এবং জীবন শনাক্তকারী প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন।

দুর্যোগের পাঁচ দিন পরও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে পাওয়া যেতে পারে—এই আশা ছাড়েনি উদ্ধারকারী দল। নেপাল, চীন ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন।

৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

রেড ক্রসের প্রাথমিক হিসাবে, এই সীমান্তবর্তী দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ত্রাণ পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

চীন এই দুর্যোগকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম ভয়াবহ সীমান্ত-পারাপার বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ ও পার্বত্য অঞ্চলের ঝুঁকি বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযান চলার সঙ্গে সঙ্গে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বহু এলাকা এখনও উদ্ধারকারীদের নাগালের বাইরে থাকায় নেপাল–চীন সীমান্তের এই দুর্যোগ এখন হিমালয় অঞ্চলের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে।