ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২০ অক্টোবার ২০২৫, ০৩:৪৯ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের তহবিল কমানো নীতির মধ্যেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়

ট্রাম্পের তহবিল কমানো নীতির মধ্যেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়

এখন সময় ডেস্ক

মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষা খাতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন, যার অন্যতম ছিল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা তহবিল কমানো। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, যা পরবর্তীতে আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তবু তহবিল সংকটের মাঝেও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় আর্থিকভাবে শক্ত অবস্থানে ফিরে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ শাখা হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এইচএমসি) জানিয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে (৩০ জুন পর্যন্ত) বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট তহবিল প্রায় ৫৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বেশি। এ সময় তারা ১১ দশমিক ৯ শতাংশ বিনিয়োগ রিটার্ন অর্জন করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি ৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।

২০২৪ অর্থবছরে হার্ভার্ডের তহবিলের পরিমাণ ছিল ৫৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যেখানে রিটার্নের হার ছিল ৯ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে তারা ৬০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান পেয়েছে—যা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অনুদান। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট কমানোর সিদ্ধান্তের পরই প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়কে আর্থিকভাবে সহায়তায় আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

এইচএমসির প্রধান নির্বাহী এন. পি. নারভেকার জানান, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলের ৪১ শতাংশ প্রাইভেট ইকুইটিতে, ৩১ শতাংশ হেজ ফান্ডে এবং ১৪ শতাংশ পাবলিক ইকুইটিতে বিনিয়োগ রয়েছে। এই বিন্যাস আগের বছরের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।

হার্ভার্ডসহ আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিনিয়োগ আয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে হেজ ফান্ড ও প্রাইভেট ইকুইটি ব্যবহার করে আসছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই আয়ের উৎসগুলো আরও বেশি পর্যালোচনার আওতায় এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি অ্যালান গার্বার এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা অনিশ্চয়তা ও রাজস্বের উৎসে হুমকি থাকা সত্ত্বেও নিজেদের টিকে রাখার উপায় খুঁজে নিচ্ছি।” যদিও তিনি সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি, পর্যবেক্ষকদের মতে এটি তাঁর প্রশাসনের নীতির প্রতিক্রিয়াই ছিল।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলার সময় হার্ভার্ড ক্যাম্পাসে ইহুদি-বিরোধী কার্যকলাপকে উৎসাহিত করা হয়েছে। সমালোচকেরা অবশ্য মনে করেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় তথাকথিত বামপন্থী প্রভাব দমন করার অজুহাত মাত্র।

এই অভিযোগের পর ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল গবেষণা তহবিল বন্ধ এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি সীমিত করার পদক্ষেপ নেয়। বর্তমানে এসব বিষয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় আদালতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স