ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বার ২০২৫, ০৩:১৭ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

জোহরান মামদানীর ঐতিহাসিক জয়: নিউইয়র্কে প্রগতিশীল রাজনীতির নতুন অধ্যায়

জোহরান মামদানীর ঐতিহাসিক জয়: নিউইয়র্কে প্রগতিশীল রাজনীতির নতুন অধ্যায়

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে ইতিহাস গড়ে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন জোহরান মামদানী। বহুদিনের প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির প্রতীক এন্ড্রু ক্যুমোকে পরাজিত করে তিনি শহরের নেতৃত্বে এসেছেন। শুধু নিউইয়র্ক নয়—তার এই জয় এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে।

মামদানী দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকে শ্রমজীবী মানুষের চাহিদা ও ব্যয়-সক্ষমতার বাস্তব সংকটের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তিনি এমন এক প্রগতিশীল ধারা তুলে ধরেন, যেখানে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার এবং সামাজিক নীতির আদর্শকে একসঙ্গে ধরে রাখা সম্ভব।

তার প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যুমো এই নির্বাচনী লড়াইকে বলেন “মধ্যপন্থীদের সঙ্গে প্রগতিশীলদের যুদ্ধ”—কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল সেই যুদ্ধের বিজয়ী হিসেবে মামদানীকেই তুলে ধরে।

নিউইয়র্কের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটের দিনে স্পষ্ট ছিল যে শহরের বড় অংশ প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির প্রতি ক্লান্ত। ক্রাউন হাইটসের প্রবীণ বাসিন্দা মাইকেল ব্ল্যাকম্যান বলেন, “মামদানী সব প্রতিশ্রুতি হয়তো পূরণ নাও করতে পারেন, কিন্তু তিনি অন্তত আদর্শ নিয়ে কথা বলেন।” অনেক ভোটারের কাছে ক্যুমো মানে ছিল অতীতের পুনরাবৃত্তি—ধনী দাতাদের প্রভাব এবং পুরনো নীতির ধারাবাহিকতা।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরেও মামদানীর বিজয় বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জাস্টিস ডেমোক্র্যাটস ঘোষণা করেছে, এই জয় কর্পোরেট স্বার্থে যুক্ত ডেমোক্র্যাটদের জন্য সতর্কবার্তা। দলের শীর্ষ নেতারা যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে পুরোপুরি সমর্থন না দিলেও, তার প্রচারণা এখন সারা দেশে নজর কাড়ছে।

রাজনৈতিক কৌশলবিদদের মতে, মামদানী নিউইয়র্কে যে মডেল তৈরি করেছেন—মানুষের মাঝে নিয়মিত উপস্থিত থাকা, সমস্যার সরাসরি ব্যাখ্যা দেওয়া, এবং ইতিবাচক ভাষায় কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা বলা—তা ভবিষ্যতে ডেমোক্র্যাটদের পথ দেখাতে পারে।

ইতিহাসবিদদের মতে, মামদানীর জয়ের পেছনে প্রধান ইস্যু ছিল মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়-সক্ষমতার সংকট। তিনি এই অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে সামাজিক ন্যায়বিচারের আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছেন—যা প্রগতিশীল রাজনীতির জন্য নতুন উদাহরণ।

ফিলিস্তিন প্রশ্নে তার দৃঢ় অবস্থান নির্বাচনী লড়াইকে আরও বিতর্কিত করেছিল। ক্যুমো তাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন; এমনকি ‘সন্ত্রাস সমর্থক’ হিসেবেও অভিহিত করেন। তবুও মামদানী তার নৈতিক অবস্থান ধরে রাখেন—এই দৃঢ়তাই তার সমর্থকদের কাছে তাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।

তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার সামনে কঠিন বাস্তবতা। কর্পোরেশন ও ধনী শ্রেণির ওপর কর বাড়ানোর মতো পরিকল্পনা সহজে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি তিনি নেতৃত্বে স্থিরতা ও শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারেন, তবে আশানুরূপ পরিবর্তন আনা অসম্ভব নয়।

কুইন্সের ভোটার সমাদ আহমেদ বলেন, “জীবনে প্রথমবার স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিলাম—কারণ প্রথমবার মনে হয়েছে কেউ আমাদের মতো মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “এখন তাকে প্রমাণ করতে হবে। নিউইয়র্কাররা অপেক্ষা করে দেখে না—প্রমাণ না হলে খুব দ্রুতই বিদায় হয়ে যাবে।”

মামদানীর এই জয় শুধু একটি নির্বাচনের সীমানায় সীমিত নয়—এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মানচিত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিতও বয়ে আনছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা