ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪২ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

জেএফ-১৭ থান্ডার: বিশ্ববাজারে পাকিস্তানের নতুন চমক

জেএফ-১৭ থান্ডার: বিশ্ববাজারে পাকিস্তানের নতুন চমক

নতুন বছরের শুরুতেই দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর প্রধানদের বৈঠক। এই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল পাকিস্তানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বর্তমান সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক রাডার সিস্টেমের সমন্বয়ে পাকিস্তানের সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তবে কেবল বাংলাদেশ নয়, মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব এবং উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার সাথেও পাকিস্তানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

জেএফ-১৭ থান্ডার মূলত পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স ও চীনের চেংডু এয়ারক্রাফট কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। এটি হালকা ওজনের এবং সব ধরনের আবহাওয়ায় ব্যবহারের উপযোগী। এই বিমানটির নকশা ও যন্ত্রাংশ তৈরির সিংহভাগ কাজ পাকিস্তানেই সম্পন্ন হয়। এতে উন্নতমানের এইসা রাডার এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রযুক্তি রয়েছে। বর্তমানে মিয়ানমার, নাইজেরিয়া এবং আজারবাইজানের মতো দেশগুলো এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে।

২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আকাশপথে যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, সেখানে জেএফ-১৭ থান্ডার এবং চীনের তৈরি জে-১০সি বিমানের দক্ষতা সামরিক বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। ওই সংঘাতে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি জেএফ-১৭ এর মাধ্যমে আধুনিক রুশ ও ফরাসি প্রযুক্তির ভারতীয় বিমানের বিরুদ্ধে বীরত্ব প্রদর্শন করেছে বলে দাবি করা হয়। এই সফলতাই মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে জেএফ-১৭ এর চাহিদা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর দাম এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ। যেখানে একটি ফরাসি রাফাল বিমানের দাম প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলারের বেশি, সেখানে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলারে একটি জেএফ-১৭ পাওয়া সম্ভব। কম বাজেটের দেশগুলোর জন্য এটি একটি সাশ্রয়ী কিন্তু কার্যকর বিকল্প। এছাড়া পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক বিক্রয় প্রক্রিয়ায় অনেক রাজনৈতিক শর্ত থাকলেও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সেই জটিলতা অনেকটাই কম।

বাংলাদেশের জন্য এই চুক্তিটি কেবল সমরাস্ত্র ক্রয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী একটি কৌশলগত সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। কয়েক দশকের পুরনো বিমান বহরকে আধুনিকায়ন করতে ঢাকা এখন বেইজিং ও ইসলামাবাদের প্রযুক্তির ওপর ভরসা রাখছে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আকাশপথে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা জেএফ-১৭ থান্ডার এখন কেবল পাকিস্তানের গর্ব নয়, বরং উন্নয়নশীল দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হয়ে উঠছে।