ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবার ২০২৫, ০৩:১৯ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

কানাডার ওপর ট্রাম্পের শুল্ক বন্ধে সিনেটের প্রস্তাব পাস, রিপাবলিকানদের ভিন্নমত

কানাডার ওপর ট্রাম্পের শুল্ক বন্ধে সিনেটের প্রস্তাব পাস, রিপাবলিকানদের ভিন্নমত

এক বিরল পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কানাডার ওপর আরোপিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। এতে চারজন রিপাবলিকান সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়ে প্রশাসনের বাণিজ্যনীতির প্রতি প্রকাশ্য বিরোধিতা জানিয়েছেন।

৫০–৪৬ ভোটে পাস হওয়া এ প্রস্তাবে প্রেসিডেন্টের জারি করা জরুরি অবস্থা বাতিলের মাধ্যমে কানাডার ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। এর আগে, ঠিক একদিন আগে সিনেট একইভাবে ব্রাজিলের ওপর আরোপিত শুল্ক বাতিলের পক্ষে ভোট দিয়েছিল।

রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল, লিসা মারকাউস্কি, সুসান কলিন্স এবং সাবেক রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল এই প্রস্তাবে ডেমোক্র্যাটদের পাশে দাঁড়ান। তারা এর আগেও গত এপ্রিলে কানাডা–সংক্রান্ত শুল্কের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন।

যদিও প্রস্তাবটি মূলত একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে, কারণ এটি প্রতিনিধি পরিষদে গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বছরের শুরুতেই হাউস রিপাবলিকানরা এমন প্রস্তাবগুলোর ওপর ভোট বাধাগ্রস্ত করতে উদ্যোগ নেয়।

সিনেটর র‌্যান্ড পল ছিলেন এই প্রস্তাবের সহ-উদ্যোক্তা, আর মিচ ম্যাককনেল প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে সপ্তাহজুড়ে ট্রাম্পের শুল্কবিরোধী যেসব প্রস্তাব ডেমোক্র্যাটরা তুলবেন, তিনি সেগুলোর প্রতিটিতে ভোট দেবেন। বৃহস্পতিবার আরেকটি ভোট হওয়ার কথা রয়েছে, যা ট্রাম্পের তথাকথিত “লিবারেশন ডে” শুল্ক বন্ধের লক্ষ্যে আনা হবে।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন, যিনি কানাডা-সংক্রান্ত এই প্রস্তাবের সহ-উদ্যোক্তাদের একজন, বলেছেন— প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (International Emergency Economic Powers Act) প্রয়োগ করে যে শুল্ক আরোপ করেছেন, তা অযৌক্তিক। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল, কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানিল নামের মাদক প্রবাহই এই জরুরি অবস্থা ঘোষণার কারণ। কিন্তু গত সপ্তাহে অন্টারিও প্রিমিয়ারের এক অ্যান্টি-ট্যারিফ বিজ্ঞাপন প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্র সেই শুল্ক আরও ১০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।

কেইন বলেন, “কানাডাকে ফেন্টানিল–সংকটের জন্য দায়ী করা হাস্যকর। এটি আসলে একটি অজুহাত, যার মাধ্যমে আরও বেশি শুল্ক আরোপের পথ তৈরি করা হচ্ছে। তারা যদি কোনো বিজ্ঞাপন চালায় যা ট্রাম্পের পছন্দ নয়, আমরা কি তার জবাবে শুল্ক ১০ শতাংশ বাড়াব?”

যদিও কেইন স্বীকার করেছেন যে এই প্রস্তাব সিনেটের বাইরে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবুও তিনি মনে করেন এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠাবে।

তিনি বলেন, “ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই আমি শিখেছি— তিনি এসব ইঙ্গিতকে গুরুত্ব দেন। যখন রিপাবলিকানদের মধ্যেও কেউ তার নীতির বিপক্ষে ভোট দিতে শুরু করেন, সেটি তার ওপর প্রভাব ফেলে এবং প্রায়ই তার আচরণ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।”

তথ্যসূত্র: সিএনএন