ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ০২ আগষ্ট ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে জাপান-যুক্তরাষ্ট্র

ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে জাপান-যুক্তরাষ্ট্র

জাপানি মুদ্রা ইয়েনের টানা দরপতন ঠেকাতে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করেছে। সোমবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা। জাপান সরকারের দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কয়েক দফায় ইয়েন কেনার পরই দুই দেশ যৌথ পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। ১৯৮৬ সালের পর ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মান সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০১১ সালের পর এই প্রথম জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র একযোগে মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করছে।

একটি সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে লেনদেন চলাকালে জাপান সরকার ডলারের বিপরীতে বিপুল পরিমাণ ইয়েন কিনেছে। ব্যাংক অব জাপানের তথ্য অনুযায়ী, এ জন্য প্রায় ৫৮ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

শুক্রবার ব্যাংক অব জাপান সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও ভবিষ্যতে হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সুদের হারের বড় ব্যবধানই ইয়েনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। কারণ, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ এখনও তুলনামূলক কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে।

এদিন ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুও উয়েদার সংবাদ সম্মেলনের পর ইয়েনের মান হঠাৎ বেড়ে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, ওই সময়ও টোকিও কর্তৃপক্ষ বাজারে ইয়েন কিনে হস্তক্ষেপ করেছে।

ইয়েনের আকস্মিক উত্থানের পর জাপানের শীর্ষ মুদ্রা কূটনীতিক আৎসুশি মিমুরা বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় ও ব্যাংক অব জাপান প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক নীতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে পদক্ষেপ নেবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ কয়েকটি ব্যাংককে সম্ভাব্য বাজার হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করে ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি নিতে বলেছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

গত সপ্তাহে মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট ইয়েনকে "অত্যন্ত অবমূল্যায়িত" বলে মন্তব্য করেন। রয়টার্সের প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, শুক্রবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাঁর নোটপ্যাডে "করণীয়" শিরোনামের নিচে ‘৫-১০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন কিনুন’ লেখা ছিল।

দুই দেশের সমন্বয়ের অংশ হিসেবে জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইংরেজিতে এক বিরল বার্তায় জানায়, বাজারে ডলারের তারল্য নিশ্চিত করতে তাদের হাতে একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের রিপার্চেজ ফ্যাসিলিটিও ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ব্যবস্থার ফলে জাপানকে মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করতে হবে না। এতে ডলারের তারল্য বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডবাজারে চাপ ও বন্ডের ইল্ড হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কম থাকবে।

এদিকে জাপানের অর্থমন্ত্রী মিনোরু কিউচি বলেছেন, সরকারি বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের কারণে সরকার বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার করবে। তাঁর ভাষায়, জাপানের আর্থিক স্থিতিশীলতার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।