ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় ডেস্ক • প্রকাশিত: ২১ ডিসেম্বার ২০২৫, ০৭:৩২ এ এম • অনলাইন সংস্করণ

ইউরোপের সাথে সামরিক সম্পর্কের ইতি টানল রাশিয়া

ইউরোপের সাথে সামরিক সম্পর্কের ইতি টানল রাশিয়া

স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা চুক্তিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। শনিবার রুশ সরকারের আইনি পোর্টালে প্রকাশিত এক আদেশের মাধ্যমে ১৯৯২ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিগুলোর সমাপ্তি ঘটানো হয়েছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইউক্রেন সংকটের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রুশ সরকারের এই আদেশের ফলে জার্মানি, পোল্যান্ড ও নরওয়ের পাশাপাশি বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া, বেলজিয়াম এবং চেক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে থাকা সামরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার আইনি কাঠামো আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে পড়ল। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে, যা এখন এই চুক্তি বাতিলের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত রূপ নিল। ইউক্রেন এবং তার মিত্রদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপীয় মাটিতে এটিই সবচেয়ে বড় ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত, যা মহাদেশটির দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা বিন্যাসকে তছনছ করে দিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের গভীরতর বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয় বরং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের চূড়ান্ত বিচ্ছেদের বহিঃপ্রকাশ। গত তিন দশক ধরে যে নিরাপত্তা কাঠামো ইউরোপে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছিল, তা এখন সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সরাসরি সামরিক যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মহাদেশটিতে সামরিক ভুল বোঝাবুঝি বা অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেল। রাশিয়ার এই অবস্থান স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা এখন আর পশ্চিমা বিশ্বের দেওয়া কোনো প্রতিরক্ষা কাঠামো বা চুক্তিতে বিশ্বাসী নয় এবং দীর্ঘমেয়াদী এক স্নায়বিক যুদ্ধের পথে হাঁটছে। এই চুক্তি বাতিলের ফলে ভবিষ্যতে ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য রাশিয়ার সামরিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে, যা সামগ্রিক বিশ্ব রাজনীতির জন্য এক অশনিসংকেত।