এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬ , ১০:২৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন মেসি

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আলো ছড়িয়ে যাওয়া লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের সমাপ্তি যেন এখন সময়ের অপেক্ষা। বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের পর তাঁর আবেগঘন মুহূর্ত এবং আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন নতুন করে অবসরের আলোচনা উসকে দিয়েছে।

গত ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়া মেসিকে দেখে অনেকেই মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর পথচলা শেষের দিকে।

আর্জেন্টিনার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নিয়ে ফেলেছেন মেসি। যদিও তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেননি। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক মাস জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন তিনি। তবে ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলার পরিকল্পনা তাঁর নেই। ওই সময় মেসির বয়স হবে ৪৩ বছর।

মেসির বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনাও করছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। ক্রীড়া সম্প্রচারমাধ্যম বিন স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর জন্য একটি জাঁকজমকপূর্ণ বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের চিন্তা করছে সংস্থাটি। যদিও ম্যাচটির দিন-তারিখ কিংবা প্রতিপক্ষ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির ক্যারিয়ার ছিল সংগ্রাম, সমালোচনা ও সাফল্যের এক অনন্য গল্প। একের পর এক ফাইনালে হার এবং দীর্ঘদিন শিরোপাখরার কারণে কঠিন সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই মেসিই আর্জেন্টিনাকে উপহার দিয়েছেন দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল সময়।

২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আর্জেন্টিনার নতুন যুগ। এরপর আসে ২০২২ সালের ফিনালিসিমা, ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার শিরোপা। মাত্র পাঁচ বছরে চারটি আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। মেসি ও কোচ লিওনেল স্কালোনির যুগল নেতৃত্বে বদলে যায় আর্জেন্টাইন ফুটবলের চিত্র।

৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন মেসি। সদ্য সমাপ্ত আসরে আট ম্যাচে করেছেন আট গোল এবং চারটি অ্যাসিস্ট। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড এখন তাঁর দখলে। যেখানে কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার অ্যাসিস্ট ছিল আটটি।

বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলদাতাদের তালিকায়ও আছেন শীর্ষস্থানীয়দের কাতারে। বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা ২১, যা তাঁকে রেখেছে দ্বিতীয় স্থানে। তালিকার শীর্ষে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল ২২টি।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। এর আগে ২০১০ সালেও স্প্যানিশরা ১-০ ব্যবধানে বিশ্বকাপ জিতেছিল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। জার্মানি ও ইতালির রয়েছে চারটি করে শিরোপা। তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছে আর্জেন্টিনা, আর দুটি করে শিরোপা রয়েছে স্পেন ও উরুগুয়ের ঝুলিতে। ইংল্যান্ডের একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা আসে ১৯৬৬ সালে।

অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো না এলেও একটি বিষয় প্রায় নিশ্চিত, আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির দীর্ঘ ও গৌরবময় যাত্রা শেষ অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর বিদায়ের দিনটি যে বিশ্ব ফুটবলের জন্য একটি আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে থাকবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।