ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৫৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজা ন্যায়বিচারের মানদণ্ডে অপর্যাপ্ত: এনসিপি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার রায়কে ন্যায়বিচারের মানদণ্ডে অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যা ও গুমের ঘটনাগুলোর বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা কাটিয়ে দ্রুত তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে। তবে প্রমাণিত অপরাধের মাত্রা, ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের তুলনায় এই সাজা ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা পূরণ করেনি বলে এনসিপির অভিমত।

দলটির দাবি, হাসানুল হক ইনু কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধী নন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক এবং দীর্ঘদিন তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরকারের গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক বৈধতা দিয়েছেন। পাশাপাশি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণমূলক আইন প্রণয়ন এবং ভিন্নমত দমনের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দমন-পীড়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বৈঠকগুলোতেও তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

এনসিপি জানায়, ট্রাইব্যুনালের রায়ে ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করে আটক ও নির্যাতনের নির্দেশ, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্র ও সহায়তার বিষয় রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিটি অভিযোগে পৃথকভাবে ১০ বছর করে সাজা ঘোষণা করা হলেও সাজাগুলো একযোগে কার্যকর হওয়ায় ইনুকে কার্যত ১০ বছরই কারাভোগ করতে হবে। এনসিপির ভাষ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধ, নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের মতো গুরুতর অপরাধে এই সাজা অস্বাভাবিকভাবে লঘু।

দলটি মনে করে, অপরাধের প্রকৃতি, ভুক্তভোগীর সংখ্যা এবং এর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ট্রাইব্যুনাল যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে পারেনি। ফলে এই রায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

এনসিপি রাষ্ট্রপক্ষকে রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত আপিল করে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে জুলাই গণহত্যা ও বিগত সরকারের সময় সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোর বিচার কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষণায় দীর্ঘসূত্রিতা এবং অনেক মামলার তদন্ত শেষ না হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়ার গতি ও তদন্ত সংস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এনসিপির মতে, জুলাই গণহত্যা ও গুমের ঘটনাগুলোর স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বা বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

দলটি এসব মামলার তদন্ত ও বিচার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করতে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থায় পর্যাপ্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল নিয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে।