প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৩৯ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে মামলা তদন্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের আরও পেশাদার ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। তদন্তের মানোন্নয়ন, বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত মে ২০২৬ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম।
সভায় দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি অংশ নেন। পুলিশ সদর দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, ডিআইজি (অপারেশনস) মো. রেজাউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় অতিরিক্ত আইজি বলেন, প্রতিটি মামলার তদন্ত অবশ্যই নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সম্পন্ন করতে হবে। তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। নিয়মিত তদারকি জোরদার করে দ্রুত তদন্ত শেষ করার মাধ্যমে বিচার কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং সেবামুখী পুলিশিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে লক্ষ্যেই মাঠ পর্যায়ের প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালনের সময় আইন, মানবাধিকার এবং পেশাগত নীতিমালা অনুসরণ করে কাজ করতে হবে।
অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি অস্ত্র, যানবাহন ও অন্যান্য সম্পদের সুরক্ষার বিষয়েও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। যেকোনো অভিযানে পরিকল্পিত ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দুই দিনব্যাপী মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার প্রথম দিনে মেট্রোপলিটন পুলিশ ও রেঞ্জ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং দ্বিতীয় দিনে বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় মে ২০২৬ মাসের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি, সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের অগ্রগতি, মামলা তদন্তের বর্তমান অবস্থা, বিচার কার্যক্রমের ফলাফল, সাজার হার এবং সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত ঘটনাবলি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি অপরাধ দমন ও বিচার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।