এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৫৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ত্রাণ -উদ্ধারে ৯ শতাধিক মার্কিন সেনা, সম্পর্ক উন্নয়নের আভাস

ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় মানবিক সহায়তা ও উদ্ধার কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ৯ শতাধিক সেনা সদস্য মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি পুয়ের্তো রিকো ও কুরাসাওতে আরও প্রায় ৮০০ মার্কিন সামরিক সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ডোনোভান বলেন, মার্কিন সেনারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। তারা বিমানবন্দর পুনরায় চালু করতে সহায়তা করছেন, যাতে আকাশ ও নৌপথে আন্তর্জাতিক ত্রাণসামগ্রী দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধারকাজ সমন্বয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র চার থেকে পাঁচটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন মোতায়েন করেছে। এসব ড্রোন থেকে পাওয়া তথ্য মায়ামিভিত্তিক একটি সমন্বয় কেন্দ্রের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা, বিচ্ছিন্ন সড়ক এবং ধসে পড়া ভবনের অবস্থান শনাক্ত করা হচ্ছে।

ডোনোভান জানান, সাধারণত নিরাপত্তা নজরদারিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবার মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে কাজে লাগানো হচ্ছে। তাঁর মতে, আকাশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদ্ধার পরিকল্পনা আরও কার্যকর করতে সহায়ক হচ্ছে।

এই সহযোগিতা দুই দেশের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের এক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার-সংক্রান্ত অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। তবে মাদুরো সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ ছাড়া গত এক মাসে ভেনেজুয়েলার কারাগারভিত্তিক অপরাধী সংগঠন ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’র নেতাকে লক্ষ্য করে আরেকটি অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ডোনোভানের দাবি, সেটি ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সমন্বয়েই পরিচালিত হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, কয়েক মাস আগের বৈরী সম্পর্ক এখন দ্রুত পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে।

গত বুধবার এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। এতে বহু ভবন ধসে পড়ে এবং হাজারো মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।

উদ্ধার অভিযানের ষষ্ঠ দিনে দেশটির আইনসভার প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, এখন পর্যন্ত মাত্র একজন জীবিতকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুটির বয়স তিন বছর। তবে এখনো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডোনোভান বলেন, ঘটনাস্থলে প্রথম পৌঁছানো মার্কিন মেরিন সদস্যরা স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে যুক্ত হন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি বেসামরিক উদ্ধারকারী দল পরিবহনেও সহায়তা করেছে। ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স থেকে যাওয়া একটি উদ্ধারকারী দল একজন মা ও তাঁর নয় মাস বয়সী শিশুকে জীবিত উদ্ধারের ভিডিওও প্রকাশ করেছে।

ত্রাণ কার্যক্রমের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি লজিস্টিক ব্যবস্থাপনাকে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সহায়তা যেন প্রবেশপথে আটকে না থেকে দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অন্যদিকে দুর্যোগের শুরুতে পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকারী দল না পাঠানোর অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই প্রথম কয়েক দিন হাতের সরঞ্জাম দিয়েই স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভারী নির্মাণযন্ত্র ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর দৃশ্য প্রচার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, বিদেশি উদ্ধারকারী দল মরদেহ উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডোনোভান বলেন, কয়েক দশকের দুর্বল নেতৃত্বের কারণে ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওষুধের সংকট এবং হাসপাতালে জনবলের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্র কত দিন এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালাবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি ডোনোভান। তাঁর ভাষায়, এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওপর নির্ভর করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, "ত্রাণ কার্যক্রম শেষ হলেই আমরা ফিরে যাব।" তবে এই যৌথ ত্রাণ অভিযান ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সামরিক সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।