প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০২ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আবারও হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হলেও এর ওপর তেহরানের পূর্ণ সার্বভৌমত্বে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গালিবাফ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের সেবামূল্যে কেবল ৬০ দিনের জন্য একটি সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে এটি কোনোভাবেই জলপথটির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা সার্বভৌম অধিকারকে প্রভাবিত করবে না।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার অংশ এবং এ বিষয়ে তেহরানের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে। ইরান প্রণালিটিকে সামরিকীকরণ করেছে, এমন অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র যেন নতুন কোনো কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা জানান তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে গালিবাফ বলেন, "এগুলো আমাদের আঞ্চলিক জলসীমা। ইরান হরমুজ প্রণালিকে সামরিকীকরণ করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো বিতর্ক বা কূটতর্কের সুযোগ দেওয়া হবে না।"
তিনি আরও বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান তার অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসবে না।
হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে গালিবাফ একে "ঐশ্বরিক উপহার" হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই প্রণালি ইরানের জন্য খোদার দেওয়া একটি বিশেষ উপহার এবং এটিই দেশটির ক্ষমতার সবচেয়ে বড় কৌশলগত হাতিয়ার।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের যেকোনো বক্তব্য বা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।