প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৫৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধ বন্ধে কিয়েভ একাধিকবার বিভিন্ন প্রস্তাব দিলেও রাশিয়া প্রতিবারই তা প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ডনবাস অঞ্চল পুরোপুরি দখলের যে লক্ষ্য মস্কো বারবার ঘোষণা করেছে, তা এখনো অর্জন করতে পারেনি এবং নির্ধারিত সময়সীমাও বারবার পিছিয়ে দিতে হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি এসব মন্তব্য করেন। এর একদিন আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, ইউক্রেন দূরপাল্লার হামলা কমানো এবং যুদ্ধের তীব্রতা হ্রাসের একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তিনি সেটিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি মূলত ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ওপর চাপ কমানোর কৌশল।
জেলেনস্কি বলেন, পুতিনের বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, তিনি দেশের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত নন। তার দাবি, ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় পেট্রোলপাম্পে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও রাশিয়া এখন জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি। তার ভাষায়, এটি চলমান যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাব এবং এরকম আরও অনেক নেতিবাচক পরিণতি ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, তাদের বাহিনী বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্যবস্তু করছে না; বরং কেবল সামরিক স্থাপনা ও কৌশলগত লক্ষ্যেই নির্ভুল হামলা চালানো হচ্ছে।
ডনবাস প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনও ওই অঞ্চল পুরোপুরি দখলের লক্ষ্যেই অটল রয়েছে। তবে যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে সেই লক্ষ্য অর্জনের সময়সীমা আবারও পিছিয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়া প্রথমে রাজধানী কিয়েভ দখলের চেষ্টা চালায়। সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাসে সামরিক অভিযান জোরদার করে।
বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পুরো লুহানস্ক অঞ্চল এবং দোনেৎস্ক ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য অংশ। যদিও রুশ বাহিনী ধীরে ধীরে দোনেৎস্কের পশ্চিমাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সেই অগ্রগতির গতি কমে এসেছে। একই সময়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে মাঝারি ও দূরপাল্লার ড্রোন হামলার পরিমাণও বাড়িয়েছে ইউক্রেন।
এ মাসের শুরুতে জেলেনস্কি পুতিনকে একটি খোলা চিঠি লিখে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে পুতিন সম্প্রতি যে নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।
ভিডিও বার্তার শেষদিকে জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইউক্রেন বারবার কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু রাশিয়া প্রতিবারই তা প্রত্যাখ্যান করেছে। রুশ নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা এখনও বাধ্যতামূলক সামরিক দায়িত্বে যুক্ত হননি এবং জ্বালানির সংকটে ভুগছেন, তাদের সামনে কী পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে, তা এখন থেকেই বিবেচনা করা উচিত।