প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬ , ০৬:০৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের শক্তির আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ফ্রান্স। সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করার পাশাপাশি একাধিক রেকর্ডও গড়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর একটি গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা।
ম্যাচের শুরুতে সুইডেন রক্ষণভাগে শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলায় ফ্রান্সকে কিছুটা চাপে রাখে। তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে সেই প্রতিরোধ ভেঙে দেন এমবাপ্পে। ৪৫তম মিনিটে উসমান দেম্বেলের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ফ্রান্স। ৫৩তম মিনিটে অরেলিয়ে চুয়ামেনির সূচনা করা আক্রমণে মাইকেল ওলিসের দারুণ থ্রু পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। পুরো ম্যাচেই ওলিসে সৃজনশীল ফুটবল উপহার দিয়ে সুইডিশ রক্ষণকে ব্যস্ত রাখেন।
৭৫তম মিনিটে আবারও ওলিসের অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন এমবাপ্পে। দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে নেওয়া তাঁর নিখুঁত শটে ৩-০ ব্যবধানে নিশ্চিত হয় ফ্রান্সের জয়।
এই ম্যাচে জোড়া গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ৬-এ উন্নীত করেছেন এমবাপ্পে। ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছেন।
এছাড়া বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা ১৮-তে পৌঁছে তিনি সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে গেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১০ গোল করে এই আসরের ইতিহাসে একক সর্বোচ্চ নকআউট গোলদাতার কৃতিত্বও নিজের করে নিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক।
শুধু ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, দল হিসেবেও নতুন ইতিহাস লিখেছে ফ্রান্স। বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে টানা আট ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল এবং টানা পাঁচ ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোল করার বিরল কীর্তি গড়েছে তারা।
এদিকে চার ম্যাচে এমবাপ্পের ৬ গোল এবং মাইকেল ওলিসের ৫ অ্যাসিস্ট ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে করে তুলেছে টুর্নামেন্টের অন্যতম ভয়ঙ্কর শক্তি। শেষ আটে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য সেই ম্যাচে জয় পেলেই সেমিফাইনালের আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছে যাবে বর্তমান ফরাসি দল।