প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ , ০১:৪৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দুই দেশের হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই বন্ধ রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ঊর্ধ্বমুখী গ্যাসের দামও নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে কোনো ধরনের স্থল অভিযান চালানো থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির স্থলবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রুহুল্লাহ নুরি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান চালানোর চেষ্টা করলে তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করতে ইরানের বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জানান, সর্বাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে তাদের স্থলবাহিনী নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
গত সোমবার মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালায় ইরান। এর মাধ্যমে আগের রাতের মার্কিন হামলার জবাব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।
এদিকে বাহরাইনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরান তাদের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার পরও দেশটির আকাশপথ ও বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
সমঝোতা স্মারকে ইরানের স্বার্থ অক্ষুণ্ন: পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ১৪ দফার কোনো শর্তেই ইরানের জাতীয় স্বার্থ, নীতি, রাষ্ট্রীয় অবস্থান কিংবা বিপ্লবী মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করা হয়নি। তাঁর ভাষ্য, এই সমঝোতা ইরানের জন্যই অধিক লাভজনক হয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরকারী ইরানি নেতারা দেশের কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলোর চাপের মুখে রয়েছেন। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে কট্টরপন্থিদের সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে বাস্তবে সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো এখনো কোনো পক্ষই পুরোপুরি কার্যকর করেনি। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিও বন্ধ রয়েছে।
পরমাণু কেন্দ্রে হামলার নিন্দা চায় ইরান
দারখোভিন পরমাণু কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক আণবিক জ্বালানি সংস্থার (আইএইএ) আনুষ্ঠানিক নিন্দা প্রত্যাশা করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘায়ি তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আইএইএর বোর্ড অব গভর্নরস ও মহাপরিচালকের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলার স্পষ্ট নিন্দা প্রত্যাশা করছে তেহরান।
তিনি বলেন, দারখোভিন পরমাণু কেন্দ্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। অতীতে পারমাণবিক ইস্যুতে আইএইএ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি এ ঘটনায়ও সংস্থাটির সুস্পষ্ট অবস্থান জানানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।
বাড়ছে তেল ও গ্যাসের দাম
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দামও বেড়েছে। সোমবার দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম চার ডলারে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগে ছিল তিন ডলার ১৪ সেন্ট। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। একই সঙ্গে সংঘাতে তিন মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনাও প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পর কিছুটা কমেছিল তেল ও গ্যাসের দাম। তবে সে সময়ও ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, তেলের দাম কমলেও গ্যাসের দাম প্রত্যাশিত হারে কমছে না।
নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার পরামর্শ দক্ষিণ কোরিয়ার
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্বল্পমেয়াদি সফরে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের দ্রুত মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সেকেন্ড ভাইস ফরেন মিনিস্টার কিম জিনা বলেন, গত মার্চ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশ ভ্রমণ সতর্কতার তৃতীয় স্তরে রয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ওই অঞ্চলে ভ্রমণ না করার পাশাপাশি বর্তমানে অবস্থানরত স্বল্পমেয়াদি সফরকারীদের দ্রুত দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।