প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ , ০১:২৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি হওয়া প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ১৯ আগস্ট থেকে এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। প্রায় এক শতাব্দী পুরোনো একটি আইনের আওতায় নেওয়া এই পদক্ষেপকে ওয়াশিংটন ও অটোয়ার মধ্যকার চলমান বাণিজ্য বিরোধের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের সেকশন ৩৩৮ প্রয়োগ করে এই শুল্ক আরোপ করেছে। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর মাধ্যমে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিলেন। এ ধারায় যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের প্রতি কোনো দেশ বৈষম্যমূলক বাণিজ্যনীতি অনুসরণ করলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে।
নতুন শুল্কের আওতায় কানাডার ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, হকি স্টিক, সুইমিং পুল, আসবাবপত্র, মাছ ধরার সরঞ্জাম, বীজ, পোশাক এবং উইগসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই শুল্ক প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র কানাডা থেকে মোট ৩৮২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল। নতুন শুল্ক সেই আমদানির প্রায় ৫ দশমিক ২ শতাংশের ওপর কার্যকর হবে।
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, কানাডা মার্কিন তৈরি গাড়ি, অ্যালকোহল ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে দেশটির প্রতিশোধমূলক বাণিজ্য ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প সুরক্ষা ও বাণিজ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এ বিষয়ে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদারদের তুলনায় কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে। এ কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন শুল্ক উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ইউএসএমসিএর আওতায় থাকা ছাড়প্রাপ্ত পণ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে জ্বালানি, পটাশ, মাছ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং আগে থেকেই সেকশন ২৩২-এর আওতায় থাকা কিছু পণ্য এই সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া কানাডার দুগ্ধ খাতের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নীতি, মার্কিন গাড়ির ওপর শুল্ক ও কোটা আরোপ এবং বিভিন্ন প্রদেশে মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রির ওপর বিধিনিষেধকে নতুন শুল্ক আরোপের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে হোয়াইট হাউস।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, গত এক বছরে কানাডায় মার্কিন মোটরযানের আমদানি ২২ শতাংশ এবং মার্কিন অ্যালকোহলজাত পণ্যের আমদানি ৮১ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে তার সরকার ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের কাছে একটি বিস্তৃত প্রস্তাব দিয়েছে। তার দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের আগের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তগুলো উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ইউএসএমসিএ লঙ্ঘন করেছে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই বাণিজ্য বিরোধের কারণে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের ব্যয় বেড়েছে। বাকি সমস্যাগুলোর সমাধানে পারস্পরিক স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে কানাডা প্রস্তুত।
এদিকে সাবেক কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর উপদেষ্টা ডায়মন্ড ইসিঙ্গার বলেন, বিভিন্ন প্রদেশে মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রি পুনরায় চালুর বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা সীমিত। কারণ, এ ধরনের সিদ্ধান্ত মূলত সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক সরকারের এখতিয়ারভুক্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেকশন ৩৩৮ মূলত বৈষম্যমূলক বাণিজ্যনীতির বিরুদ্ধে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। অতীতে কয়েকজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এটি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করলেও বাস্তবে কখনো প্রয়োগ করেননি। সাবেক মার্কিন বাণিজ্য কর্মকর্তা জন ভেরোনোর মতে, প্রতিশোধমূলক শুল্কের জবাবে এই আইনের ব্যবহার এর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।