প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ , ০১:৫২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশটির পক্ষ থেকে এই অঙ্গীকার তুলে ধরেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (স্থানীয় সময়) দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তাকে বাংলাদেশ জাতীয় অগ্রাধিকারের একটি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছে। জাতিসংঘ ঘোষিত সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মদশক (২০২১-২০৩০)-এর বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশটি আইনি, নীতিগত এবং প্রযুক্তিনির্ভর নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
মন্ত্রী জানান, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিতকরণ এবং মহাসড়কে পথচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদ ও টেকসই সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ এবং সর্বোত্তম চর্চার আলোকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করে তা অনুমোদন ও প্রণয়নের বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর অংশীদারিত্ব এবং সব অংশীজনের সম্মিলিত দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শব্বির হাসান খান।
এদিকে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য ‘সড়ক নিরাপত্তায় বহুখাতভিত্তিক সমন্বয় জোরদার: সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা সফলভাবে কমিয়ে আনা দেশগুলোর সর্বোত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক সাইড ইভেন্টে যৌথ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন শেখ রবিউল আলম।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের এই অবস্থান দেশটির সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক লক্ষ্যের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার প্রচেষ্টার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।