প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ , ০১:২৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার দেওয়া এ ঘোষণাকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মানদেব প্রণালীসহ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হুথিদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের ‘অন্যায় ও নিপীড়নমূলক অবরোধের’ জবাবে তারা ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে। তাদের দাবি, এ পদক্ষেপ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘোষণার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা হুথিদের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি উল্লেখ করে প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতও নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। সোমবার তাদের পরিচয় প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। এছাড়া উত্তর ইরাকে ইরানি ড্রোন প্রতিহত করার সময় আরও একজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পেয়েছে। পাকিস্তানও উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। গত মাসে স্বাক্ষরিত ভঙ্গুর সমঝোতা চুক্তিকে টিকিয়ে রাখতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে।
হুথিদের নৌ-অবরোধ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। যদিও পরে তা কিছুটা কমে আসে। জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বাব এল-মানদেব প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্যও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে বলেছেন, মার্কিন সেনাদের হত্যার জন্য তেহরানকে বহুগুণ মূল্য দিতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের এই ঘোষণা শুধু সৌদি আরব নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও নতুন অনিশ্চয়তার বার্তা বহন করছে।