প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন সামরিক ও উপকূলীয় স্থাপনায় মার্কিন হামলা এবং এর জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের পাল্টা আঘাত, দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে অঞ্চলজুড়ে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের খার্গ দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রারত একটি খালি তেল ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর জাহাজটির ধোঁয়া নির্গমন নলে (স্মোকস্ট্যাক) হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে ট্যাংকারটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ কার্যকরের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। চলমান সংঘাতে এটিই প্রথমবার, যখন তেহরান সরাসরি এমন নৌ-হামলার মুখে পড়ল।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পৃথক দফায় হামলা চালায়। একই দিন সকালে গ্রেটার তুনব দ্বীপে অবস্থিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রেও আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে, এমন সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করাই ছিল এসব হামলার উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, আহভাজের আশপাশের চারটি এলাকা এবং দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক ও কেশম দ্বীপের নিকটবর্তী স্থানেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এসব হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন হামলার জবাবে ইরান বাহরাইন ও কুয়েতকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের মার্কিন হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
এদিকে যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে আটকে পড়া এক মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে তেহরান। যদিও কূটনৈতিক এই উদ্যোগ চলমান সামরিক সংঘাত প্রশমনে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে এখনো মনে হচ্ছে না।
গত শনিবার ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হতো। ফলে হরমুজে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পঞ্চম দিনে এসে তেহরানে মার্কিন বিমান হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে সরাসরি নৌ-অভিযান পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার ইরানের হুমকি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্যও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।