এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ভারতের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য ফাঁস

ভারতের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র কুদানকুলাম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট (কেকেএনপি) থেকে বিপুল পরিমাণ স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের ঘটনা সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপ ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ প্রায় ১৯ হাজার নথি প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স। এসব নথির সম্মিলিত আকার প্রায় ১৪ দশমিক ৩ গিগাবাইট।

ফাঁস হওয়া তথ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিভিন্ন অবকাঠামোর নকশা, যন্ত্রাংশের কারিগরি বিবরণ, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত স্পর্শকাতর উপাত্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কেন্দ্রটির মূল পরমাণু কোর সিস্টেম বা রিঅ্যাক্টরের নকশা এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর কুদানকুলামে অবস্থিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ভারতের সবচেয়ে বড় পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। দেশটিতে বর্তমানে মোট সাতটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে।

রয়টার্সের হাতে আসা নথিগুলো পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কুদানকুলাম প্রকল্পের তথ্যভাণ্ডারে মোট প্রায় ৮ লাখ ৫৮ হাজার তথ্য সংরক্ষিত ছিল। ফাঁস হওয়া ১৯ হাজার নথি সেই বিশাল তথ্যভাণ্ডারের একটি অংশ হলেও সেগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এসব তথ্য সার্ভারে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

এই প্রকল্পের অন্যতম ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনিল আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র-সংশ্লিষ্ট একটি সার্ভারে সংরক্ষিত কিছু তথ্য ফাঁস হয়েছে। সার্ভারটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল ভারতীয় ডেটা পরিষেবা প্রদানকারী স্টার্টআপ ইয়োত্তা। এ বিষয়ে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ঠিক কোন ধরনের তথ্য ফাঁস হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অন্যদিকে ইয়োত্তা রিলায়েন্স গ্রুপের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, যেই সার্ভারে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে সেটির মালিকানা রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের এবং এতে নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি ছিল। গত ২৯ মে তারা সার্ভারটিতে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে রিলায়েন্সকে বিষয়টি জানায়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ প্রতিরোধ করা হয় বলেও দাবি করেছে ইয়োত্তা।

পরে জুন মাসের শেষ দিকে রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইয়োত্তাকে জানায় যে, একটি বহিরাগত পক্ষ তাদের কাছে তথ্য ফাঁসের হুমকি দিচ্ছে। সে হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে, গত জুন মাসেই তথ্যগুলো চুরি করা হয়েছিল এবং সম্প্রতি সেগুলো প্রকাশ্যে এসেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া নথিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিভিন্ন স্পর্শকাতর অংশে প্রবেশের পদ্ধতি এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামো সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। যদিও কেন্দ্রটির মূল রিঅ্যাক্টর বা কোর সিস্টেমের কোনো তথ্য এতে পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, কুদানকুলাম প্রকল্পের কোর সিস্টেম সরবরাহ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটম।

মার্কিন অলাভজনক সংস্থা নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের জ্যেষ্ঠ পরিচালক নিকোলাস রোথ এই তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর ভাষ্য, এসব তথ্য যদি কোনো দুষ্কৃতিকারী গোষ্ঠীর হাতে যায়, তাহলে তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা আরও নিখুঁতভাবে করতে সক্ষম হতে পারে।

এদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশটির পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এনপিসিআইএল) ইতোমধ্যে রিলায়েন্স গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। পাশাপাশি ভারতের প্রধান সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (সার্ট-ইন) তথ্য ফাঁসের ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে।