এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

কিউবায় কয়েক হাজার সেনা পাঠানো ও বিমান হামলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব কিউবার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। আলোচনায় রয়েছে কয়েক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন এবং বিমান হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনাও। তবে এ ধরনের কোনো অভিযান পরিচালনার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

স্থানীয় সময় বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, সম্ভাব্য বিমান হামলার পরিকল্পনায় ১০১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের নাম বিবেচনায় রয়েছে। যদিও কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পরিকল্পনা পর্যালোচনার অর্থ এই নয় যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা পেন্টাগন সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিউবার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ হবে না। কারণ, বর্তমানে ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক তৎপরতায় যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত রয়েছে।

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এখনো কিউবা সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক সংস্কারে আগ্রহী একটি টেকনোক্র্যাটিক সরকার কিউবার ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কিউবার সামরিক বাহিনী এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জিএইএসএর ওপর আর্থিক চাপ বৃদ্ধি সত্ত্বেও এ প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

গত ১১ জুলাই দেওয়া এক বিবৃতিতে রুবিও অভিযোগ করেন, কিউবার সরকার ও তাদের অভিজাত গোষ্ঠী সংস্কার প্রত্যাখ্যান করে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং মার্ক্সবাদী আদর্শ থেকে সরে আসতে অনিচ্ছুক।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কিউবার রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের আয় দেশটির শাসকগোষ্ঠী এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনীসহ বিভিন্ন আধাসামরিক কাঠামোর কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত মাসে পেন্টাগনে অনুষ্ঠিত একটি 'কনসেপ্ট অব অপারেশনস' ব্রিফিংয়ে কিউবাকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রাথমিক বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। এ ধরনের পরিকল্পনায় সাধারণত অভিযানের উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয় সেনাসংখ্যা, রসদ সরবরাহ, সময়সূচি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়।

তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও গোয়েন্দা সক্ষমতার বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকায় অদূর ভবিষ্যতে কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।

অন্যদিকে, ইরানকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে মতপার্থক্যের খবরও উঠে এসেছে। সূত্রগুলোর দাবি, ট্রাম্প প্রকাশ্যে সামরিক নেতৃত্বের প্রশংসা করলেও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তবে হোয়াইট হাউস এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, সামরিক অভিযানের সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব নিয়ে প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত সন্তুষ্ট ছিলেন।

এদিকে, পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সচিব জোয়েল ভালদেজ জানিয়েছেন, সম্ভাব্য বা কাল্পনিক কোনো সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর মন্তব্য করে না। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত আলোচনার বিষয়েও তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।