-
🇧🇩
বাংলা মূল ভাষা (Original)
-
🇺🇸
English English
চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর অবশেষে হত্যা মামলা হয়েছে তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে। মামলার আসামিদের দেশত্যাগ ঠেকাতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে নাম-তথ্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
ওসি বলেন, “মামলায় ১১ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দেশের বাইরে থাকতে পারেন। তাই দেশে থাকা আসামিদের শনাক্তে মোবাইল ট্র্যাকিংসহ নানা প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, মামলার তদন্তে কোনো ধরনের চাপ নেই এবং খুব শিগগিরই আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
গত ২১ অক্টোবর গভীর রাতে রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। এজাহারে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হককে। এছাড়া ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, চলচ্চিত্রের খলনায়ক ডনসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটন এলাকার বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই সময় থেকে তার মৃত্যু রহস্যে ঢাকা পড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে এটি অপমৃত্যু মামলা হিসেবে চললেও প্রায় তিন দশক পর পুনরায় নতুন তদন্ত শুরু হলো।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পূর্বে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন। তবে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি। তার দাবি, “আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।”
তিন দশক পর নতুন এই মামলার মাধ্যমে জনপ্রিয় এই চিত্রনায়কের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের আশা আবারও জেগে উঠেছে।