-
🇧🇩
বাংলা মূল ভাষা (Original)
-
🇺🇸
English English
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশের নিশ্চয়তা পেলে তাঁর দল নির্বাচনে অংশ নেবে। জনগণ যাকে ভোট দিয়ে পছন্দ করবে, সেই যেন ক্ষমতায় যেতে পারে—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসের মুন হলরুমে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ভালো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন দলীয় ব্যক্তিকে কেন এ পদে আনতে হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নিজ এলাকায় বলেছেন, বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী না হলে সেখানে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এ ধরনের বক্তব্যকে জনগণকে আগাম ভয় দেখানোর শামিল উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, ভয়ভীতি ও দলীয় প্রভাবের মধ্যে নির্বাচন হলে তা সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তাঁরা কারও ‘স্কেপগোট’ হতে চান না; বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়তে চান।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রধান দায়িত্ব নিজের মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা। কিন্তু মাদক ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কিংবা সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো বলে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তার মাপকাঠি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করা হলেও সেই উন্নতি কীসের ভিত্তিতে পরিমাপ করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।
সাংবাদিকতাকে সমাজের আয়না বললেন জামায়াত আমীর
সাংবাদিকদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবাদপত্র সমাজের আয়না। সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে সমাজের দোষ-ত্রুটি সামনে আসে।
দেশের সংবাদমাধ্যমের ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে সংবাদমাধ্যমের ওপর আঘাত এসেছিল। সে সময় বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া অন্যগুলোর প্রকাশনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমীর প্রকৌশলী মো. শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদসহ স্থানীয় নেতারা।
এর আগে সকাল ৯টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে পৌঁছালে জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের জামায়াত নেতারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কাজী মখলিছুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী, হবিগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ এবং ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পুলিশের একটি দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
এর আগে সকাল ৮টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ জেলা মৌলভীবাজারে এটিই ডা. শফিকুর রহমানের প্রথম সফর বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।