-
🇧🇩
বাংলা মূল ভাষা (Original)
-
🇺🇸
English English
সাইবার নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সামরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিবর্তিত নিরাপত্তা বাস্তবতায় নতুন তাৎপর্য বহন করছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। একই সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন পর্যায়ে উন্নীত করার সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করা হয়।
আলোচনায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য চীনে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো, আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
প্রথাগত সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তাকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। ক্রমবর্ধমান সাইবার হুমকি মোকাবিলায় তথ্য বিনিময়, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ ছাড়া বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা খাতে চীনের ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে পারস্পরিক আস্থা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।