ভাষা নির্বাচন / Select Language
  • 🇧🇩
    বাংলা মূল ভাষা (Original)
  • 🇺🇸
    English English
এখন সময় বিশ্লেষণ • প্রকাশিত: ১২ আগষ্ট ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের অবস্থান

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের অবস্থান

ঢাকার অনুরোধ ‘পর্যালোচনা’ করছে দিল্লি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানায়নি ভারত

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকার করা অনুরোধ এখনো পর্যালোচনা করছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি বিদ্যমান ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে ভারত এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে ভারতের অবস্থান পরিষ্কার। বাংলাদেশ থেকে পাওয়া অনুরোধটি প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ বিষয়টি এখনো ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনাধীন।

ভারতের এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকেও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরেই শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের সহযোগিতা চেয়ে আসছে।

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ভারতে চলে যান। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে তাঁর প্রত্যর্পণের প্রশ্নটি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে ‘প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া’ অনুসরণের কথা বললেও এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছে। বরং আইনি ও কূটনৈতিক দিক পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে নয়াদিল্লি।

এদিকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি ভারতে অবস্থানরত আরও কিছু ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ও দুই দেশের আলোচনায় রয়েছে। ফলে প্রত্যর্পণ ইস্যুটি শুধু একজন ব্যক্তিকে দেশে ফেরানোর প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কও জড়িয়ে পড়েছে।

সব মিলিয়ে ভারতের সর্বশেষ অবস্থান হলো—বাংলাদেশের অনুরোধ তারা পেয়েছে এবং সেটি পর্যালোচনা করছে; কিন্তু প্রত্যর্পণের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। ফলে শেখ হাসিনাকে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না, সেটিই এখন দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি।